তাফহীমুল কুরআন _ আল ফালাক, আন নাস
মু'আওবিযাতাইনা
(আল ফালাক ও আন নাস) ৯৯৩০ ১১৯০
নামকরণ . কুরআন এ শেষ সূরা দু'টি আলাদা আলাদা সূরা ঠিকই এবং মূল লিপিতে এ সূরা দু'টি ভিন্ন ভিন্ন নামেই লিখিত হয়েছে, কিন্তু এদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত গভীর এবং উভয়ের বিষয়বস্তু পরস্পরের সাথে এত বেশী নিকট সম্পর্ক রাখে যার ফলে এদের একটি যুক্ত নাম "্মু"আওবিযাতাইন” (আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দুণটি সূরা) রাখা হয়েছে। ইমাম বায়হাকী তার "্দালায়েলে নবুওয়াত” বইতে লিখেছেন £ এ সূরা দু'টি || নাধিলও হয়েছে একই সাথে। তাই উভয়ের যুক্তনাম রাখা হয়েছে স্মু'আওবিযাতাইন”। আমরা এখানে উভয়ের জন্য একটি সাধারণ ভূমিকা লিখছি। কারণ, এদের উভয়ের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াবলী ও বক্তব্য সম্পূর্ণ একই পথাঁয়ভুক্ত। তবে ভূমিকায় একত্র করার পর সামনের দিকে প্রত্যেকের আলাদা ব্যাখ্যা করা হবে।
নাঘিলের স্মস্ম-্কাল
হযরত হাসান বসরী, ইকরামা, আতা ও জাবের ইবনে যায়েদ বলেন, এ সূরা দু*টি মক্ী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আরাস (রা) থেকেও এ ধরনের একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে। || কিন্তু তাঁর অন্য একটি বর্ণনায় একে মাদানী বলা হয়েছে। আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়ের (রা) ও কাতাদাহও একই উক্তি করেছেন। যে সমস্ত হাদীস এ দ্বিতীয় বক্তব্যটিকে করে তার মধ্যে মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও মুসনাদে আহমাদ ইবনে হান্বলে হযরত উকবা ইবনে আমের (রা) বর্ণিত একটি হাদীস হচ্ছে £ একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন £
০35১, াঠা। ৪১2 -98৯৭ -ধর। ৩১১ ০০৪০৪4 ছি 5441 "তোমরা কি কৌন খবর রাখো, আজ রাতে আমার ওপর কেমন ধরনের আয়াত নাধিল হয়েছে? নজীরবিহীন আয়াত! কুল আউযু বিররিন ফালাক এবং কুল আউযু বিররিন নাস।” হযরত উকবা ইবনে আমের (রা) হিজরাতের পরে মদীনা তাইয়েবায় ইসলাম গ্রহণ |
করেন বলেই এ হাদীসের ভিত্তিতে এ সূরা দু”টিকে মাদানী বলার যৌক্তিকতা দেখা দেয়। উ50568555828537885058625888135389৯8
তাফহীমুল কুরআন আল ফালাক, আন নাস
বক্তব্যকে শক্তিশালী করেছে সেগুলো ইবনে সা"দ, মুহিউস সুন্নাহ্ বাগাবী, ইমাম নাসাঈ, এবং আরো অনেকে উদ্ধৃত করেছেন। সেগুলোতে বলা হয়েছে £ ইহুদিরা যখন মদীনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদু করেছিল এবং তার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন এ সূরা নাধিল হয়েছিল। ইবনে সাদ ওয়াকেদীর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন, এটি সপ্তম হিজরীর ঘটনা। এরই তিত্তিতে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাও এ সূরা দু"টিকে মাদানী বলেছেন।
কিন্তু ইতিপূর্বে সূরা ইখলাসের ভূমিকায় আমরা বলেছি, কোন সূরা বা আয়াত সম্পর্কে যখন বলা হয়, উমুক সময় সেটি নাধিল হয়েছিল। তখন এর অর্থ নিশ্চিতভাবে এ হয় না যে, সেটি প্রথমবার এ সময় নাধিল হয়েছেল। বরং অনেক সময় এমনও হয়েছে, একটি সূরা বা আয়াত প্রথমে নাধিল হয়েছিল, তারপর কোন বিশেষ ঘটনা বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পুনর্বার তারই প্রতি বরং কখনো কখনো বারবার তার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টি আকৃষ্ট করা হয়েছিল। আমাদের || মতে সূরা নাস ও সুরা ফালাকের ব্যাপারটিও এ রকমের। এদের বিষয়বস্তু পরিফকার জানিয়ে দিচ্ছে, প্রথমে মক্কায় এমন এক সময় সূরা দু'টি নাষিল হয়েছিল যখন সেখানে নবী করীমের (সা) বিরোধিতা জোরেশোরে শুরু হয়ে গিয়েছিল। পরবতীকালে যখন মদীনা তাইয়েবায় মুনাফিক, ইহুদি ও মুশরিকদের বিপুল বিরোধিতা শুরু হলো, তখন তাঁকে আবার এ সূরা দু'টি পড়ার নির্দেশ দেয়া হলো। ওপরে উল্লেখিত হযরত উকবা ইবনে আমেরের রো) রেওয়ায়াতে একথাই বনা হয়েছে। তারপর যখন তাঁকে যাদু করা হলো
এবং তাঁর মানসিক অসুস্থতা বেশ বেড়ে গেলো তখন আল্লাহর হুকুমে জিবরীল আলাইহিস 48৮2
মুফাসসির এ সূরা দু'টিকে মক্কী গণ্যু.করেন তুর বূর্ননাই বেশী নির্ভরযোগ্য । সূরা || ফালাকের শুধুমাত্র একটি আয়াত ১1] ৬৪ ১৯1 ১ ০৬ যাদুর সাথে সম্পর্ক রাখে, এ ছাড়া আল ফালাকের বাকি সমস্ত আয়াত এবং সূরা নাসের সবক'টি আয়াত এ ব্যাপারে সরাসরি কোন সম্পর্ক রাখে না। যাদুর ঘটনার সাথে এ সূরা দুটিকে সম্পর্কিত করার পথে এটিও প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।
বিষয়বন্তর ও মুল বক্তব্য
মকা মু'আয্যমায় এক বিশেষ প্রেক্ষপটে এ সূরা দু'টি নাধিল হয়েছিল। তখন ইসলামী দাওয়াতের সূচনা পর্বেই মনে হচ্ছিল, রসূলুল্লাহ সাগ্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন ভীমরুলের চাকে হাত দিয়ে ফেলেছেন। তাঁর দাওয়াত যতই বিস্তার লাভ করতে থেকেছে কুরাইশ বংশীয় কাফেরদের বিরোধিতাও ততোই বেড়ে যেতে থেকেছে। যতদিন তাদের আশা ছিল, কোনরকম দেয়া-নেয়া করে অথবা ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে ভাঁকে ইসলামী দাওয়াতের কাজ থেকে বিরত রাখতে পারা যাবে, ততদিন তো বিদ্বেষ ও শত্রুতার তীব্রতার কিছুটা কমতি ছিল। কিন্তু নবী করীম (সা) যখন দীনের ব্যাপারে তাদের সাথে কোন প্রকার আপোষ রফা করার প্রশ্নে তাদেরকে সম্পূর্ণ নিরাশ করে দিলেন এবং সূরা আল কাফেরূনে তাদেরকে দ্ার্থহীন কন্ঠে বলে দিলেন-_যাদের বন্দেগী লি
তাফহীমুল কুরআন (৯) আল ফালাক, আন নাস
শিব বদ উউইউউিইউউঈইউইউইইউই না, কাজেই আমার পথ আলাদা এবং তোমাদের পথও আলাদা__তখন কাফেরদের শক্রতা চরমে পৌছে গিয়েছিল। বিশেষ করে যেসব পরিবারের ব্যক্তিবর্গ (পুরুষ-নারী, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে) ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের মনে তো নবী করীমের (সা) বিরুদ্ধে সবসময় তুষের আগুন জ্বননছিল। ঘরে ঘরে তাঁকে অতিশাপ দেয়া হচ্ছিল। কোন দিন রাতের আঁধারে লুকিয়ে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। যাতে বনী হাশেমদের কেউ হত্যাকারীর সন্ধান পেয়ে আবার প্রতিশোধ নিতে না পারে এ জন্য এ ধরনের পরামর্শ চলছিল। তাঁকে যাদু-টোনা করা হচ্ছিল। এভাবে তাঁকে মেরে ফেলার বা কঠিন রোগে আক্রান্ত করার অথবা পাগল করে দেয়ার অভিপ্রায় ছিল। জিন ও মানুষদের মধ্যকার শয়তান্রা সব দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা চাচ্ছিন জন-মানুষের মনে তাঁর এবং তিনি যে দীন তথা জীবন বিধান ও কুরআন এনেছেন তার বিরুদ্ধে কোন না কোন সংশয় সৃষ্টি করতে। এর ফলে লোকেরা তাঁর প্রতি বিরূপ ধারণা করে দূরে সরে যাবে বলে তারা মনে করছিল। অনেক লোকের মনে হিংসার আগুন হ্বলছিল। কারণ তারা নিজেদের ছাড়া বা নিজেদের গোত্রের লোকদের ছাড়া আর কারো প্রদীপের আলো জ্বলতে দেখতে পারতো না। উদাহরণ স্বরূপ, আবু জেহেল যে কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধিতায় সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল সেটি ছিল তার নিজের ভাষায় ঃ "আমাদের ও বনী আবদে মান্নাফের (তথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার) মধ্যে ছিল পারস্পরিক প্রতিযোগিতা। তারা মানুষকে আহার করিয়েছে, আমরাও আহার করিয়েছি। তারা লোকদেরকে সওয়ারী দিয়েছে, আমরাও দিয়েছি। তারা দান করেছে, আমরাও দান করেছি। এমন কি তারা ও. আমরা মান-মর্যাদার দৌড়ে সমানে সমান হয়ে গেছি। এখন তারা বলছে কি, আমাদের মধ্যে একজন নবী আছে, তার কাছে আকাশ থেকে অহী আসে। আচ্ছা, এখন এ ক্ষেত্রে আমরা তাদের সাথে কেমন করে মোকাবেলা করতে পারি? আল্লাহর কসম, আমরা কখনো তাকে মেনে নেবো না এবং তার সত্যতার স্বীকৃতি দেবো না।” (ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, ৩৩৭-৩৩৮ পৃষ্ঠা)
এহেশ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয়েছে £ এদেরকে বলে দাও আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রবের, সমুদয় সৃষ্টির দুফৃতি ও অনিষ্ট থেকে, রাতের আধার থেকে, যাদুকর ও যাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকদের দুকৃতি থেকে। আর এদেরকে বলে দাও, জামি আশ্রয় চাচ্ছি সমস্ত মানুষের রব, সমস্ত মানুষের বাদশা ও সমস্ত মানুষের মাবুদের কাছে। এমন প্রত্যেকটি সন্দেহ ও প্ররোচনা সৃষ্টিকারীর অনিষ্ট থেকে যা বার বার ঘুরে ফিরে আসে এবং মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে ও তাদেরকে প্ররোচিত করে। তারা জিন শয়তানদের মধ্য থেকে হতে পারে, আবার মানুষ শয়তানদের মধ্য থেকেও হতে পারে। এটা হযরত মূসার (আ) ঠিক সেই সময়ের কথার মতো যখন ফেরাউন ভরা দরবারে তাঁকে হত্যা করার সংকল্প প্রকাশ করেছিল। হযরত মূসা তখন বলেছিলেন £ ,
প্ মে দত ৪52$ রি ৪ পবা 255 ৮1 টিনা ০34০ সু ০৫9৩ ৩০০৯ ০২০ জা "আমি নিজের ও তোমাদের রবের আশ্রয় নিয়েছি এমন ধরনের প্রত্যেক দান্তিকের মোকাবেলায় যে হিসেবের দিনের প্রতি ঈমান রাখে না” (আল মু'মিন, ২৭)
আমপারা
তাফহীমুল কুরআন ভি আল ফালাক, আন নাস
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” কোন কোন রেওয়ায়াতে আরো বাড়তি বলা হয়েছে যে, তিনি নামাবে এ সূরা দু'টি পড়তেন না। ূ
এ রেওয়ায়াতগুলোর কারণে ইসলাম বিরোধীরা কুরআনের বিরুদ্ধে সন্দেহ সৃষ্টির এবং (নাউযুবিল্লাহ) কুরআন যে বিকৃতিমুক্ত নয় একথা বনার সুযোগ পেয়ে গেছে। বরং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা) মতো বড় সাহাবী যখন এই মত পোষণ করছেন যে, কুরআনের এ দু'টি সূরা বাইর থেকে তাতে সংযোজিত হয়েছে তখন না জানি তার মধ্যে আরো কত কি পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে। এ ধরনের সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টির সুযোগ তারা সহজেই পেয়ে গেছে। কুরআনকে এ ধরনের দোষারোপ মুক্ত করার জন্য কাষী আবু বকর বাকেন্লানী ও কাষী ইয়া ইবনে মাসউদের বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইবনে মাসউদ সূরা ফালাক ও সূরা নাসের কুরআনের অংশ হবার ব্যাপারটি অস্বীকার করতেন না বরং তিনি শুধু এ সূরা দুটিকে কুরআনের পাতায় লিখে রাখতে অস্বীকার করতেন। কারণ তাঁর মতে কুরআনের পাতায় শুধুমাত্র তাই লিখে রাখা উচিত যা নিখার অনুমতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের এ জবাব ও ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কারণ ইবনে মাসউদ (রা) এ সূরা দু'টির কুরআনের সূরা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন, একথা নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত। ইমাম নববী, ইমাম ইবনে হাযম, ইমাম ফখরন্দীন রাষী প্রমুখ অন্য কতিপয় মনীষী ইবনে মাসউদ যে এ ধরনের কোন কথা বলেছেন, একথাটিকেই সরাসরি মিথ্যা ও বাতিল গণ্য করেছেন। কিন্ত নির্ভরযোগ্য এতিহাসিক সত্যকে সনদ ছাড়াই রদ করে দেয়া কোন সুস্থ জ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয়। | [ও
এখন প্রশ্ন থেকে যায়, ইবনে মাসউদ (রা) সংক্রান্ত এ ব্রেওয়ায়াত থেকে কুরআনের প্রতি যে দোষারোপ হচ্ছে তার জবাব কি ? এ প্রশ্নের কয়েকটি জবাব জামরা এখানে পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করছি।
এক £ হাফেয বাযযার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে মসউদ (রো) সংক্রান্ত এ রেওয়ায়াতগুলো বর্ণনা করার পর লিখেছেন £ নিজের এ রায়ের ব্যাপারে তিনি একান্তই নিঃসংগ ও একাকী। সাহাবীদের একজনও তাঁর এ বক্তব্য সমর্থন করেননি। |
দুই $ সকল সাহাবী একমত হওয়ার ভিত্তিতে তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন মজীদের যে অনুলিপি তৈরি করেছিনেন এবং ইসলামী খেলাফতের পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকারী পর্যায়ে পাঠিয়েছিলেন তাতে এ দু'টি সূরা লিপিবদ্ধ ছিল। ণ
তিন £ রসূলুগ্রাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যস্ত সমগ্র ইসলামী দুনিয়ায় কুরআনের যে কপির ওপর সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একমত তাতেই সূরা দু'টি লিখিত আছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদের (রা) একক রায় তাঁর বিপুল ও উচ্চ মর্যাদা সত্তেও সমগ্র উম্মাতের এ মহান ইজমার মোকাবেলায় কোন মূল্যই রাখে না। -
চার ঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য হাদীস অনুযায়ী একথা প্রমাণিত হয় যে, তিনি. নামাযে এ সুরা দু'টি নিজে পড়তেন,
্
তা-১৯/৪১-_ .. আমপারা
তাফহীমুল কুরআন জে আল ফালাক, আন নাস
অন্যদের পড়ার আদেশ দিতেন কে নি শিক্ষা দিতেন। উদাহরণ স্বরূপ নিম্নোক্ত হাদীসগুলো দেখুন।
ইতিপূর্বে মুসলিম, আহমাদ, তিরমিী ও নাসাঈর বরাত দিয়ে আমরা হযরত উকবা ইবনে আমেরের (রা) একটি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছি। এতে রসূলুল্লাহ (সা) সূরা ফালাক ও সূরা নাস সম্পর্কে তাঁকে বলেন £ আজ রাতে এ আয়াতগুলো আমার ওপর নাধিল হয়েছে। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত নাসায়ীর এক রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে £ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু'টি সূরা ফজরের নামাযে পড়েন। ইবনে হিত্বানও এই হযরত উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে রেওয়ায়াত করেছেন, নবী করীম (সা) তাঁকে বলেন £ শ্যদি সম্ভব হয় তোমার নামাযসমূহ থেকে এ সূরা দু”টির পড়া যেন বাদ না যায়।” সাঈদ ইবনে মনসুর হযরত মু'আয ইবনে জাবানের রেওয়ায়াত উদ্ধৃত 74788 ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সহীহ সনদ সহকারে আরো একজন হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, নবী (সা):তাঁকে বলেন £ যখন ভূমি নামায পড়বে, তাতে এ দু'টি সুরা পড়তে থাকবে। মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈতে উকবা ইবনে আমেরের (রা) একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন £ঃ "লোকেরা যে সৃূরাগুলো পড়ে তার মধ্যে সবেত্তিম দু”টি সুরা কি তোমাকে শেখাবো না? তিনি আরজ করেন, অবশ্যি শিখাবেন। হে আল্লার রসূন! একথায় তিনি তাকে এ আল ফালাক ও আন নাস সূরা দু'টি পড়ান। তারপর নামায দাঁড়িয়ে যায় এবং নবী করীম (সা) এ সূরা দু”টি তাতে পড়েন। নামায শেষ করে তিনি তার কাছ দিয়ে যাবার সময় বলেন £ "হে উকাব (উকবা)! কেমন দেখলে তুমি?” এরপর তাকে হিদায়াত দিলেন, যখন তৃমি ঘুমাতে যাও এবং যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠো তখন এ সূরা দু'টি পড়ো। মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ তিরমিযী, নাসাঈতে উকবা ইবনে আমেরের (রা) অন্য একটি রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে £ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে প্রত্যেক নামাযের পর "্মুআওবিযাত” (অর্থাৎ মূরা ইখলাস, সূরা আল ফালাক ও সূরা আন নাস) পড়তে বলেন। নাসায়ী ইবনে মারদুইয়ার এবং হাকেম উকবা ইবনে আমেরের আর একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছে £ একবার নবী করিম (সা) সওয়ারীর পিঠে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং আমি তাঁর পবিত্র পায়ে হাত রেখে সাথে সাথে যাচ্ছিলাম। আমি বললাম, আমাকে কি সূরা হুদ সূরা ইউসুফ শিখিয়ে দেবেন? বললেন £ "আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য "কুল আউজু বিরারিল ফালাক-এর চাইতে বেশী বেশী উপকারী আর কোন জিনিস নেই।” নাসাঈ, বায়হাকী, বাগাবী ও ইবনে সা'দ আদুল্লাহ ইবনে আবেস আল জুহানীর রেওয়ায়াত.উদ্ভৃত করেছেন। তাতে 'বলা হয়েছে, নবী করিম সো) আমাকে বলেছেন £ "ইবনে আবেস, আমি কি তোমাকে জানাবো না, জাশ্রয় প্রার্থীরা যতগুলো জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কোনগুলো?” আমি বললাম, অবশ্যি বলবেন হে আল্লাহর রসূল! বললেন £ "কূল আউযু বিরৰিল ফালাক” ও “কুল আউযু বিরবিন নাস” সুরা দু*টি।” ইবনে মারদুইয়া হযরত ইবনে সালমার রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছে ঃ "আল্লাহ যে
তাফহীমুল কুরআন ভিত আল ফালাক, আন নাস
পলা মাসউদ রো) এ ধরনের ভুল ধারণার শিকার হলেন কেমন করে? দু”টি বর্ণনা একত্র করে দেখলে আমরা এর জবাব পেতে পারি।
একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে £ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলতেন, এটিতো ' আল্লাহর একটি হুকুম ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুকুম দেয়া হয়েছিল, আপনি এভাবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান। অন্য বর্ণনাটি বিভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত
উদ্ধৃত করেছেন। যির ইবনে হুবাইশ বর্ণনা করেছেন, আমি হযরত উবাইকে (রা) বললাম, আপনার তাই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তো এমন এমন কথা বলেন। তাঁর এ উক্তি সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? তিনি জবাব দিলেন £ আমি এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে বলা হয়েছে, "কুল (বলো), কাজেই আমিও বলেছি 'কুল।' তাই আমরাও তেমনিভাবে বলি যেভাবে রসূলুল্লাহ (সা) বলতেন।” ইমাম আহমাদের বর্ণনা মতে হযরত উবাইয়ের বক্তব্য ছিল নিম্নরূপ £ "আমি সাক্ষ দিচ্ছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, জিবরীল আলাইহিস সালাম তীকে বলেছিলেন, কুল আউযু বিররিল ফালাক” তাই তিনিও তেমনি বলেন। আর জিবরীল (আ) "কুল আউজু বিররিন নাস, বলেছিলেন, তাই তিনিও তেমনি বলেন। কাজেই রসূল (সা) যেভাবে বলতেন আমরাও তেমনি বলি।” এ দু”টি বর্ণনা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) উভয় সূরায় "কুল' (বলো) শব্দ দেখে এ ভূল ধারণা করেছিলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লান্লাছি আলাইহি ওয়া সাল্লামকে "আউযু বিরর্িল ফালাক (আমি সকাল বেলার রবের আশ্রয় চাচ্ছি) ও "আউযু বিররিন নাস” (আমি সমস্ত মানুষের রবের আশ্রয় চাচ্ছি) বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রসূলে করিমকে (সা)-এর এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন অনুভব করেননি। হযরত উবাই ইবনে কা'বের রো) মনে এ সম্পর্কে প্রশ্ন জেগেছিল। তিনি রসূলের (সা) সামেনে প্রশ্ন রেখেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন £ জিব্রীল আলাইহিস সালাম যেহেতু "কুল” বলেছিলেন তাই আমিও 'কুল্প” বলি। একথাটিকে এভাবেও ধরা যায় যদি কাউকে হুকুম দেয়ার উদ্দেশ্য থাকে এবং তাকে বলা হয়, "বলো, আমি আশ্রয় চাচ্ছি, তাহলে এ হুকুমটি পালন করতে গিয়ে এভাবে বলবে না যে, "বলো, আমি আশ্রয় চাচ্ছি।” বরং সে ক্ষেত্রে বলো” শব্দটি বাদ দিয়ে "আমি আশ্রয় চাচ্ছি বলবে। বিপরীত পক্ষে যদি উর্ধতন শাসকের সংবাদবাহক কাউকে এভাবে খবর দেয়, "বলো, আমি আশ্রয় চাচ্ছি” এবং এ পয়গাম তার নিজের কাছে রেখে দেবার জন্য নয় বরৎ অন্যদের কাছেও পৌছে দেবার জন্য দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি লোকদের কাছে এ পয়গামের শব্দগুলো, হুবহু পৌঁছে দেবেন। এর মধ্য থেকে কোন একটি শব্দ বাদ দেবার অধিকার তাঁর থাকবে না। কাজেই এ সূরা দু'টির সূচনা 'কুল” শব্দ দিয়ে করা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এটি”অহীর কালাম এবং কালামটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যেভাবে নাধিল হয়েছিন ঠিক
তাফহীমুল কুরআন আল ফালাক, আন নাস
নেন লাভার লাই ভিন বা দু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেয়া একটি হুকুম ছিল না। কুরআন মজীদে এ দু'টি সূরা ছাড়াও এমন ৩৩০টি জায়াত আছে যেগুলো 'কুল' শব্দ দিয়ে শুরু করা হয়েছে। এ আয়াতগুলোতে 'কুল' বেলো) থাকা একথারই সাক্ষ্য বহন করে যে, এগ্ডলো অহীর কালাম এবং যেসব শব্দ সহকারে এগুলো নবী করিম (সা)-এর ওপর নাযিল হয়েছিল হুবহু সেই শব্দগুলো সহকারে প্লোকদের কাছে পোছিয়ে দেয়া তাঁর জন্য ফরয করা হয়েছিল। নয়তো প্রত্যেক জায়গায় 'কুল' (বলো) শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু সেই শব্দগুলোই বলতেন যেগুলো বঙ্গার হুকুম তাঁকে দেয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে তিনি এগুলো কুরআনে সংযোজিত করতেন না। বরং এ হুকুমটি পালন করার জন্য শুধু মাত্র সেই কথাগুলোই বলে দেয়া যথেষ্ট মনে করতেন যেগুলো বলার হুকুম তাঁকে দেয়া হয়েছিল। .
এখানে সামান্য একটু চিন্তা-ভাবনা করলে একথা ভালোভাবে অনুধাবন করা যেতে পারে যে, সাহাবায়ে কেরামকে তুল-ক্রুটি মুক্ত মনে করা এবং তাদের কোন কথা সম্পর্কে 'ভুল' শব্দটি শুনার সাথে সাথেই সাহাবীদের অবমাননা করা হয়েছে বগে হৈ চৈ শুরু করে দেয়া কতইনা অর্থহীন। এখানে দেখা যাচ্ছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর মত উচ্চ মযাদাসম্পন্ন সাহাবীর কুরআনের দু'টি সূরা সম্পর্কে কত বড় একটি ভুল হয়ে গেছে। এতবড় উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবীর যদি এমনি একটি ভূল হয়ে যেতে পারে তাহলে অন্যদেরও কোন ভূল হয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা ইলমী তথা তাত্বিক গবেষণার জন্য এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করতে পারি। তবে যে ব্যক্তি 85575517592, হবে সে হবে একজন মন্তবড় জালেম। এ *মুআওবিযাতাইন” প্রসংগে মুফাস্সির ও মুহান্দিসগণ হযরত ইবনে মাসউদ (রা)-এর রায়কে .ভুল বলেছেন। কিন্তু তাঁদের কেউই কথা বলার দুঃসাহস করেননি যে, (নাউযুবিল্লাহ) কুরআনের দু”টি সূরা অস্বীকার করে তিনি কাফের হয়ে গিয়েছিলেন।
নবী কল্ীমের নো) ওপার মাদুর প্রভাব
এ সূরাটির ব্যাপারে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দেয়। হাদীস থেকে জানা যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদু করা হয়েছিল। তার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ যাদুর প্রভাব দূর করার জন্য জিব্বীল আলাইহিস সালাম এসে তীকে এ সূরা দু”টি পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রাচীন ও আধুনিক বুদ্ধিবাদীদের অনেকে এ ব্যাপারটির বিরুদ্ধে আপত্তি উ্থাপন করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এ হাদীসগুলো মেনে নিলে সমস্ত শরীয়াতটাই সন্দেহযুক্ত হয়ে যায়। কারণ, নবীর ওপর যদি যাদুর প্রভাব পড়তে পারে এবং এ হাদীসগুলোর দৃষ্টিতে তাঁর ওপর যাদুর প্রভাব পড়েছিল, তাহলে আমরা জানি না বিরোধীরা যাদুর প্রভাব ফেলে তাঁর মুখ থেকে কতো কথা বলিয়ে এবং তাঁকে দিয়ে কত কাজ করিয়ে নিয়েছে। আর তাঁর প্রদত্ত শিক্ষার মধ্যেইবা কি পরিমাণ জিনিস আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং কতটা যাদুর প্রভাবে ছিল তাও আমরা জানি না। বরং তাদের বক্তব্য হচ্ছে, একথা সত্য বলে মেনে নেয়ার পর যাদুরই মাধ্যমে নবীকে নবুওয়াতের দাবী করতে উদ্ুদ্ধ
1881585865558555558069855705488780885
তাফহীমুল কুরআন আল ফালাক, আন নাস
ফেরেশতা এসেছে বলে মনে করেছিলেন কিনা একথাও নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে না। তাদের আরো যুক্তি হচ্ছে, এ হাদীসগুলো কুরআন মজীদের সাথে সংঘর্ষশীল। কারণ, কুরআন মজীদে কাফেরদের এ অভিযোগ বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা নবীকে যাদুগধস্ত ব্যক্তি বলেছে £ : (৮ ন্ ০৬25 41 9১০5550194৮ 115: "্জালেমরা বলেন, তোমরা নিছক একজন 'যাদুপস্ত ব্যক্তির আনুগত্য করে চলছো।»
(বনি ইসরাঈল, ৪৭) আর এ হাদীসগুলো কাফেরদের এ অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ করছে। অর্থাৎ এ হাদীসগুলো থেকে প্রমাণ হচ্ছে, সত্যই নবীর ওপর যাদু করা হয়েছিল।
এ বিষয়টির ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছুতে হলে সর্বপ্রথম দেখতে হবে, মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদুর প্রভাব পড়েছিল বলে কি সহীহ ও নির্ভরযোগ্য এতিহাসিক বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে? আর যদি প্রমাণিত হয়ে থাকে তাহলে তা কি ছিল এবং কতটুকু ছিল? তারপর যেসব আপত্তি করা হয়েছে, ইতিহাস থেকে প্রমাণিত বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে সেগুলো উথ্থাপিত হতে পারে কি না, তা দেখতে হবে।
প্রথম যুগের মুসলিম আলেমগণ নিজেদের চিন্তা ও ধারণা অনুযায়ী ইতিহাস বিকৃত অথবা সত্য গোপন করার প্রচেষ্টা না চালিয়ে চরম সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। বরং যা কিছু ইতিহাস থেকে প্রমাণিত হয়েছে তাকে হুবহু পরবর্তী প্রজন্মের কাছে গৌছিয়ে দিয়েছেন। এ সত্যগুলো থেকে যদি কেউ বিপরীত ফলাফল গ্রহণে উদ্যোগী হয় তাহলে তাদের সংগৃহীত এ উপাদানগুলোর সাহায্যে সে যে বিপুলভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে পারবে এ সম্ভাবনার কোন পরোয়াই তারা করেননি। এখন যদি কোন একটি কথা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বিপুল সংখ্যক এঁতিহাসিক তথ্য বিবরণীর তিত্তিতে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা মেনে নিলে অমুক অমুক ক্রটি ও অনিষ্টকারিতা দেখা দেবে এ অজুহাত দেখিয়ে ইতিহাসকে মেনে নিতে অস্বীকার করা কোন ন্যায়নিষ্ঠ পত্তিত ও জ্ঞানী লোকের কাজ হতে পারে না। অনুরূপভাবে ইতিহাস থেকে যতটুকু সত্য বলে প্রমাণিত হয় তার ওপর কল্পনার ঘোড়া দৌড়িয়ে তাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে নিজের আসল আকৃতি থেকে অনেকগুণ বাড়িয়ে পেশ করাও এঁতিহাসিক সততার পরিচায়ক নয়। এর পরিবর্তে ইতিহাসকে ইতিহাস হিসেবে মেনে নিয়ে তার মাধ্যমে কি প্রমাণ হয় ও কি প্রমাণ হয় না তা দেখাই তার কাজ। .
ধীতিহাসিক তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদুর প্রভাব চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত। তাত্বিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের রাধ্যমে তাকে যদি ভুল প্রমাণ করা যেতে পারে তাহলে দুনিয়ার কোন একটি এ্রতিহাসিক ঘটনাকেও সঠিক প্রমাণ করা যাবে না। হযরত আয়েশা (রা) হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইমাম আহমাদ, আবদুর রাজ্জাক, হুমাইদী, বায়হাকী, তাবারানী, ইবনে মারদুইয়া, ইবনে সা'দ, ইবনে আবী শাইবা, হাকেম, আবদ ইবনে হুমাইদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এত বিভিন্ন ও বিপুলসংখ্যক সনদের মাধ্যমে এ ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন যে,
তাফহীমুল কুরআন ড৬১ আল ফালাক, আন নাস
বি জজ প্মৃতাওয়াতির বর্ণনার পর্যায়ে পৌছে গেছে। বিভিন্ন হাদীসে এর যে বিস্তারিত বিবরণ
এসেছে সেগুলো একত্র করে এবং একসাথে গ্রথিত ও সুসহ€বদ্ধ করে সাজিয়ে গুছিয়ে
আমরা এখানে একটি ঘটনা আকারে তুলে ধরছি।
হোদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী সান্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ফিরে এলেন। এ সময় সপ্তম হিজরীর মহররম মাসে খয়বর থেকে ইহুদীদের একটি প্রতিনিধি দল মদীনায় এলো। তারা আনসারদের বনি যুরাইক গোত্রের বিখ্যাত যাদুকর লাবীদ ইবনে আ"সমের সাথে সাক্ষাত করলো।১ তারা তাকে বললো, মুহাম্মাদ (সা) আমাদের সাথে যা কিছু করেছেন তা তো তুমি জানো। আমরা তাঁর ওপর অনেকবার যাদু করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। এখন তোমার কাছে এসেছি। কারণ ভূমি আমাদের চাইতে বড় যাদুকর। তোমার জন্য এ তিনটি আশরাফী স্বর্ণ মুদ্রা) এনেছি। এগুলো গ্রহণ করো এবং মুহাম্মাদের ওপর একটি শক্ত যাদুর আঘাত হানো। এ সময় একটি ইহুদী ছেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কাজ করতো। তার সাথে যোগসাজশ করে তারা রসূলুল্রাহর (সা) চিরুনীর একটি টুকরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হলো। তাতে তীর পবিত্র চুল আটকানো ছিল সেই চুলগুলো ও চিরুনীর দীতের ওপর যাদু করা হলো। কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে, লাবীদ ইবনে আ”সম নিজেই যাদু করেছিল। আবার কোন কোন
পু) বর্ণনায় বলা হয়েছে-_ তার বোনেরা ছিল তার চেয়ে বড় যাদুকর। তাদের সাহায্যে সে যাদু করেছিল যাহোক এ দু*টির মধ্যে যে কোন একটিই সঠিক হবে। এ ক্ষেত্রে এ যাদুকে একটি পুরুষ খেজুরের ছড়ার আবরণের২ নীচে রেখে লাবীদ তাকে বনী যুরাইকের : যারওয়ান বা যী-আযওয়ান নামক কুয়ার তলায় একটি পাথর চাপা দিয়ে রাখলো।. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যাদুর প্রভাব পড়তে পূর্ণ এক বছর সময় লাগলো। বছরের শেষ ছয় মাসে মেজাজে কিছু পরিবর্তন অনুভূত হতে থাকলো। শেষ চ্লিশ দিন কঠিন এবং শেষ তিন দিন কঠিনতর হয়ে গেলো। তবে এর সবচেয়ে বেশী যে প্রভাব তাঁর ওপর পড়লো তা কেবল এতটুকুই যে, দিনের পর দিন তিনি রোগা ও নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগনদেন। কোন কাজের ব্যাপারে মনে করতেন, করে ফেলেছেন অথচ তা করেননি। নিজের স্ত্রীদের সম্পর্কে মনে করতেন, তিনি তাদের কাছে গেছেন অথচ আসলে তাদের কাছে যাননি। আবার কোন কোন সময় নিজের দৃষ্টির ব্যাপারেও তীর সন্দেহ হতো। মনে করতেন কোন জিনিস দেখেছেন অথচ আসলে তা দেখেননি! এসব প্রভাব তীর নিজের ব্যক্তিসত্তা পর্যন্তই সীমাদ্ধ ছিল। এমনকি তাঁর ওপর দিয়ে কি ঘটে যাচ্ছে তা অন্যেরা জানতেও
১. কোন কোন বর্ণনাকারী তাকে ইহুদী বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন, মুনাফিক ও ইহুদীদের মিত্র! তবে এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, সে ছিল বনী যুরাইকের অন্তরভূক্ত। আর বনী যুরাইক ইহুদীদের কোন গোত্র ছিল না, একথা সবাই জানে। বরং এটি ছিল খাযরাজদের অন্তরভূক্ত আনসারদের একটি গোত্র তাই বলা যেতে পারে, সে মদীনাবাসী ছিল, কিন্তু ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল অথবা ইহুদীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ সহযোগী হবার কারণে কেউ কেউ তাকে ইহুদী মনে করে নিয়েছিল। তবুও তার জন্য মুনাফিক শব্দ ব্যবহার করার কারণে জানা যায়, বাহ্যত সে নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দিতো।
২. শুরুতে খেজুরের ছড়া একটি আবরণের মধ্যে থাকে। পুরুষ খেজুরের আবরণের রং হয় মানুষের রংয়ের মতো। তার গন্ধ হয় মানুবের শুক্রের গন্ধের মতো।
তাফহীমূল কুরআন ও আল ফালাক, আন নাস
] ধা ব্যাঘাতও সৃষ্টি হতে পারেনি। কোন একটি বর্ণনায়ও একথা বলা হয়নি যে, সে সময় তিনি কুরআনের কোন আয়াত ভূলে গিয়েছিলেন। অথবা কোন আয়াত ভূল পড়েছিলেন। কিংবা নিজের মজনিসে, বক্তৃতায় ও ভাষণে তাঁর শিক্ষাবলীতে কোন পার্থক্য সূচিত হয়েছিল। অথবা এমন কোন কালাম তিনি অহী হিসেবে পেশ করেছিলেন যা আসলে তাঁর ওপর নাধিল হয়নি। কিংবা তার কোন নামায তরক হয়ে গেছে এবং সে সম্পকে তিনি মনে করেছেন যে, তা পড়ে নিয়েছেন অথচ আসলে তা পড়েননি। নাউযুবিল্লাহ, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে গেলে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যেতো। সারা আরব দেশে খবর ছড়িয়ে পড়তো যে নবীকে কেউ কাৎ করতে পারেনি। একজন যাদুকরের যাদুর কাছে সে কাৎ হয়ে গেছে। কিন্তু তীর নবুওয়াতের মর্যাদা এ অবস্থায় পুরোপুরি সমুন্নত থেকেছে। তার ওপর কোন প্রভাব পড়েনি। কেবলমাত্র নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এ জিনিসটি অনুভব করে পেরেশান হয়ে পড়েছিলেন। শেষে একদিন তিনি হযরত আয়েশার কাছে ছিলেন। এ সময় বার বার আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে থাকলেন। এ অবস্থায় তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। জেগে উঠে হযরত আয়েশাকে বললেন, আমি যে কথা আমার রবের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম তা তিনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। হযরত জাশেয়া (রা) জিজ্ঞেস করলেন, কি কথা? জবাব দিলেন, "দু'জন লোক অর্থাৎ দু'জন ফেরেশতা দু'জন লোকের আকৃতি ধরে) আমার কাছে এলো। একজন ছিল মাথার দিকে, আরেকজন পায়ের দিকে। একজন জিজ্ঞেস করলো, এঁর কি হয়েছে? অন্যজন জবাব দিল, এর ওপর যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন জিজ্ঞেস করলো, কে করেছে? জবাব দিল, লাবীদ ইবনে আ"সম। জিজ্ঞেস করলো, কোন জিনিসের মধ্যে করেছে? জবাব দিল, একটি পুরুষ খেজুরের ছড়ার আবরণে আবৃত চিরুনী ও চুলের মধ্যে। জিজ্ঞেস করলো, তা কোথায় আছে? জবাব দিল, বনী যুরাইকের কুয়া যী-আযওয়ানের (অথবা যী-যারওয়ান) তলায় পাথর চাপা দেয়া আছে। জিজ্ঞেস করলো, তাহলে এখন এ জন্য কি করা দরকার? জবাব দিল, কুয়ার পানি সেঁচে ফেলতে হবে। তারপর পাথরের নিচ থেকে সেটি বের করে আনতে হবে৷ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী (রা), হযরত ইবনে ইয়াসির রো) ও হযরত যুবাইরকে (রা) পাঠালেন! তাদের সাথে শামিল হলেন হযরত জুবাইর ইবনে ইয়াস আযযুরাকী ও কায়েস ইবনে মিহসান আযযুরাকী (অর্থাৎ বনি যুরাইকের দুই ব্যক্তি)। পরে নবী (সা) নিজেও কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে সেখানে পৌছে গেলেন। পানি. তোলা হলো। কুয়ার তলা থেকে কথিত আবরণটি বের করে আনা হলো। তার মধ্যে চিরুনী ও চুলের সাথে মিশিয়ে রাখা একটি সৃতায় এগারটি গিরা দেয়া ছিল। আর ছিল মোমের একটি পুতৃল। তার গায়ে কয়েকটি সুই ফুটানো ছিল। জিব্রীল আলাইহিস সালাম এসে বললেন, আপনি সূরা আন ফালাক ও আন নাস পড়ুন। কাজেই তিনি এক একটি আয়াত পড়তে যাচ্ছিলেন, সেই সাথে এক একটি গিরা খুলে যাচ্ছিল এবং পুতুলের গা থেকে এক একটি সুইও তুলে নেয়; হচ্ছিল। সূরা পড়া শেষ হতেই সমস্ত গিরা খুলে গেলো, সমস্ত সুই উঠে এলো এবং তিনি যাদুর প্রভাবমুক্ত হয়ে ঠিক এমন অবস্থায় পৌঁছে গেলেন যেমন কোন ব্যক্তি রশি দিয়ে বাঁধা ছিল তারপর তার বীধন খুলে গেলো। তারপর তিনি লাবীদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। সে তার দোষ স্বীকার করলো এবং তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। কারণ, নিজের ব্যক্তিসন্তার জন্য তিনি কোনদিন কারো ওপর প্রতিশোধ নেননি।
র্
তাফহীমুল কুরআন আল ফালাক, আন নাস
শুধু এই নয়, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কোন কথাবার্তা বলতেও জানালেন। কারণ তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে রোগমুক্ত করেছেন, কাজেই এখন আমি কারো বিরুদ্ধে লোকদের উত্তেজিত করতে চাই না।
এ হলো এ যাদুর কাহিনী। এর মধ্যে এমন কোন বিষয় নেই যা তাঁর নবুওয়াতের মর্যাদার মধ্যে কোন প্রকার ক্রটি সৃষ্টি করতে পারে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি তাঁকে আহত করা যেতে পারে, যেমন ওহোদের যুদ্ধে হয়েছিল, যদি তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে পড়েন, যেমন বিভিন্ন হাদীস থেকে প্রমাণিত, যদি তকে বিচ্ছু কামড় দেয়, যেমন অন্যান্য হাদীসে পাওয়া যায় এবং নবী হবার জন্য মহান আল্লাহ্ তীর সাথে যে সংরক্ষণের ওয়াদা করেছিলেন, যদি এগুলোর মধ্য থেকে কোন একটিও তার পরিপন্থী না হয়ে থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি যাদুর প্রভাবে অসুস্থ হতেও পারেন। এতে অস্বাভাবিক কিছুই নেই। নবীর ওপর যাদুর প্রভাব পড়তে পারে, একথা কুরআন মজীদ থেকেও প্রমানণিত। সূরা আরাফেও ফেরাউনের যাদুকরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে ঃ হযরত মুসা (আ)-এর মোকাবিলায় তারা এলো। তারা সেখানে এ মোকাবিলা দেখতে উপস্থিত হাজার হাজার লোকের দৃষ্টিশক্তির ওপর যাদু করলো (০৮-4।০২০।১১৯--) | সূরা ত্বা-হায় বলা হয়েছে ঃ তারা যেসব লাঠি ও রশি ছুঁড়ে দিয়েছিল সেগুলো 'সম্পর্কে শুধু সাধারণ লোকেরাই নয়, হযরত মৃসাও মনে করলেন সেগুলো সাপের মতো তাঁর দিকে দৌড়ে আসছে এবং তিনি এতে ভীত হয়ে পড়লেন। এমন কি মহান আল্লাহ তীর ওপর এই মর্মে অহী নাধিল করলেন যে, ভয় পেয়ো না, তৃমিই বিজয়ী হবে। তোমার লাঠিটা একটু ছুঁড়ে ফেলো।
॥ 5০০৪৭ & ্ 5৫5)529 522 পক 5 ্ু)ত পু । পু এ শিউিও সিটি ৯ শিট িটিটি সিএ ১1531 2০0 40149598005 7৮০৮০ 15554০5705০
৭1:4০ ৪৪ ৮৩৭ এখানে যদি আপত্তি উথাপন করে বলা হয়, এ ধরনের বিশ্লেষণের মাধ্যমে মক্কার কাফেরদের দোষারোপকেই সত্য প্রমাণ করা হলো। তারা তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যাদুধস্ত ব্যক্তি বলতো। এর জবাবে বলা যায়, তিনি কোন যাদুকরের যাদুর প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এ অর্থে মকার কাফেররা তাঁকে যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি বলতো না। বরৎ তীঁকে যাদুর প্রভাবে পাগল করে দিয়েছিল এবং নবুওয়াতের দাবী ছিল তাঁর এ পাগলামীরই বহিঃপ্রকাশ। আর এ পাগলামীর বশবর্তী হয়েই তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের : গল্প শুনিয়ে যেতেন। একথা সুস্পষ্ট, যে বিষয় ইতিহাস থেকে প্রমাণিত, যে যাদুর প্রভাৰ শুধুমাত্র মুহা'সাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিসত্তার ওপর পড়েছিল, তীর নবীসন্তা ছিল এর আওতার সম্পূর্ণ বাইরে। তেমন ধরনের কোন বিষয়ের সাথে এ আপত্তি সম্পৃক্ত হতে পারে না।
এ প্রসংগে একথাও উল্লেখযোগ্য, যারা যাদুকে নিছক কাল্পনিক জিনিস মনে করেন, যাদুর প্রভাবের কোন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্ভবপর নয় বলেই তারা এ ধরনের মত 0
আমপারা
তাফহীমুল কুরআন আল ফালাক, আন নাস
ধরা পড়ে, ফিু লেগুলো কিভাবে হর, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তার বিশেষণ স্ব ম়। এ ধরনের ব্যাখ্যা বিশগ্রেষণ করার অক্ষমতার ফলে একথা অপরিহার্য হয়ে ওঠে না যে, আমরা যে জিনিসটি বিশ্লেষণ করতে অক্ষম সেটিকে আমাদের অস্বীকার করতে হবে। আসলে যাদু একটি মনস্তাত্বিক প্রভাব। শারীরিক প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিগুলো যেভাবে শরীরের সীমা অতিক্রম 'করে মনকে প্রভাবিত করে, ঠিক তেমনি যাদুর প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিও মনের সীমা পেরিয়ে শরীরকেও প্রভাবিত- করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ভয় একটি মনস্তাত্বিক জিনিস। কিন্তু শরীরের ওপর এর প্রভাব যখন পড়ে গায়ের লোমগ্ুলো খাড়া হয়ে যায় এবং দেহ থর থর করে কীপতে থাকে। আসলে যাদু প্রকৃত সন্তায় কোন পরিবর্তন ঘটায় না। তবে মানুষের মন ও তার ইন্দ্রিয়গুলো এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মনে করতে থাকে, বুঝি প্রকৃত সম্ভার পরিবর্তন হয়েছে। হযরত মূসার দিকে যাদুকররা যেসব লাঠি ও রশি ছুঁড়ে ফেলেছিল সেগুলো সত্যি সাপে পরিণত হয়নি। কিন্তু হাজার হাজার লোকের চোখে এমন যাদুর প্রভাব পড়লো যে, তারা সবাই এগুলোকে সাপ মনে করলো। এমন কি হযরত মূসার ইন্দরিয়ানুভূতিও এ যাদুর প্রভাব মুক্ত থাকতে পারেনি। অনুরূপভাবে কুরআনের সূরা আল বাকারার ১০২ আয়াতে বলা হয়েছে £ বেবিলনে হারন্ত ও মারুতের কাছে লোকেরা এমন যাদু শিখতো যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতো। এটাও ছিল একটি মনস্তাত্বিক প্রতাব। আর তাছাড়া অভিজ্ঞতার মাধ্যমে লোকেরা যদি এ কাজে
ইসলাচে সাড়-স্কুকের স্থান
এ সূরা দু'টির ব্যাপারে তৃতীয় যে প্রশ্নটি দেখা দেয়, সেটি হচ্ছে এই যে, ইসলামে কি ঝাড়-ফুঁকের কোন অবকাশ আছে? তাছাড়া জাড়-ফুঁক যথার্থই কোন প্রভাব ফেলে কি না? এ প্রশ্ন দেখা দেবার কারণ হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক সহীহ হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে,
না তখন হযরত আয়েশা (রা) এ সূরাগুলো ( ভাবে বা নবী করীমের হুকুমে) পড়তেন এবং তীর মুবারক হাতের বরকতের কথা করে তাঁরই হাত নিয়ে তীর শরীরে বুলাতেন। এ বিষয়বস্তু স্লিত রেওয়ায়াত নির্ভুল সূত্রে বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ ও মুআত্তা ইমাম যানিকে হযরত আয়েশা (রা) থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। আর রসূলের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা)-এর চাইতে আর কারো বেশী জানার কথা নয়।
তা-১৯/৪২-_ আমপারা
তাফহীমুল কুরআল আল ফালাক, আন নাস
দুললিল কল ু্ক্
হাদীস গ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জারাস (রা)-এর একটি সুদীর্ঘ রেওয়ায়াত বর্ণিত হয়েছে। তার শেষের দিকে নবী করীম (সা) বলেছেন £ আমার উম্মাতের মধ্যে তারা বিনা হিসেবে জানাতে প্রবেশ করবে যারা না দাগ দেয়ার চিকিতসা করে, না জাড়-ফুঁক করায় আর না শুভাশুত লক্ষণ গ্রহণ করে। (মুসলিম) হযরত মুগীরা ইবনে শোবার (রা) বর্ণনা মতে রসূলুল্লাহ সারাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন £ যে ব্যক্তি দাগ দেয়ার চিকিৎসা করালো এবং ঝাড়-ফুঁক করালো সে আল্লাহর প্রতি ভাওয়াকুল থেকে সম্পর্ক হয়ে গেলো। (তিরমিযী) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেছন £ রসূলুল্লাহ সানরা্লাহই আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশটি জিনিস অপছন্দ করতেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ঝাড়-ফুঁক করা, তবে সূরা আল ফালাক ও আন নাস অথবা এ দু”টি ও সূরা ইখলাস ছাড়া (আবু দাউদ, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনে হিবান ও হাকেম)। কোন কোন হাদীস থেকে একথাও জানা যায় যে, প্রথম দিকে রসূলে করীম (সা) ঝাড় ফুঁক করা থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করিছেলেন, কিন্তু পরে শর্ত সাপেক্ষে এর অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই শর্তগুলো হচ্ছে ঃ এতে কোন শিরকের আমেজ থাকতে পারবে না। আল্লাহর পবিত্র নাম বা তীর পবিত্র কালামের সাহায্যে ঝাড়-ফুঁক করতে হবে। কালাম বোধগম্য হতে হবে এবং তার মধ্যে কোন গুনাহর জিনিস নেই একথা জানা সম্ভব হতে হবে। আর এই সঙ্গে ভরসা জাড়-ফুঁকের ওপর করা যাবে না এবং তাকে রোগ নিরাময়কারী মনে করা যাবে না। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এ মর্মে যে, আল্লাহ চাইলে এ ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমেই সে রোগ নিরাময় করবেন। এ ব্যাপারে শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গী সুস্পষ্ট হয়ে যাবার পর এখন হাদীসের বক্তব্য দেখুন।
তাবারানী 'সগীর' গ্রন্থে হযরত আলীর (রা) রেওয়ায়াত করেছেন! তাতে বলা হয়েছে £ একবার নামায পড়ার সময় রসূলে করীমকে (সা) কামড় দেয়। নামায শেষ করে তিনি বলেন, বিচ্ছুর ওপর আল্লাহর লানত, সে না কোন নামাধীকে রেহাই দেয়, না আর কাউকে। তারপর পানি ও লবন আনান। যে জায়গায় বিচ্ছু কামড়েছিল সেখানে নোনতা পানি দিয়ে ডলতে থাকেন আর কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, কুল হওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরবিল ফালাক ও কুল আউযু বিররিন নাস পড়তে থাকেন।
ইবনে আরাসের রো) বর্ণনাও হাদীসে এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হাসান ও হযরত হুসাইনের ওপর এ দোয়া পড়তেন £
পাঠান ৪৩তগ15 ৭ «পপ, ১৪৩ দু নি ৮৮৮৪ 16০০ 2০0০ ০৮৮৮8 04 ০০ 25000 4741 ০৮৮145 0 গা শা পে ঞ্ রঙ পা শাল পা রা র্ পা রা
44১০০
"আমি তোমাদের দু'জনকে প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক এবং বদনজর থেকে আল্লাহর ক্রুটিমুক্ত কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিয়ে দিচ্ছি।” পু
বুখারী, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিধী ও ইবনে মাজাহ)
উসমান ইবনে আবিল আস সাকাফী সম্পর্কে সামান্য শব্দের হেরফের সহকারে
115358708958555888858
তাফহীমূল কুরআন ৩১১ আল ফালাক, আন নাস
টিজযুুক্ভুজ্ভদুজ্ দলে: যখন থেকে মুসলমান হয়েছি তখন থেকেই একটা ব্যথা অনুভব করছি। এ ব্যথা আমাকে মেরে ফেলে দিয়েছে। নবী (সা) বলেন, যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখানে তোমার ডান হাতটা রাখো। ,তারপ্র তিনবার বিসমিব্লাহ পড়ো, এবং সাতবার. এ,দোয়াটা পড়ে সেখানে হাত বুলাও ১১৮৯১ ১৯| ৮১১১ ১45৯4495২১৭ খ্আমি আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাচ্ছি সেই জিনেসের' অনিষ্টকারিতাঁ থেকে যাকে আমি অনুভব করছি এবং যার লেগে যাওয়ার তয়ে আমি তীত।” মুআত্তায় এর ওপর আরো এতটুকু বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, উসমান ইবনে আবিল আস বলেন, এরপর আমার সে ব্যথা দূর হয়ে যেতে থাকে এবং আমার ঘরের লোকদেরকেও আমি এটা শিখাই।
মুসনাদে আহমাদ ও তাহাবী গ্রন্থে তালক ইবনে আলীর (রা) রেওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতেই আমাকে বিচ্ছু কামড় দেয়। তিনি কিছু পড়ে আমাকে ফুঁক দেন এবং কামড়ানো জায়গায় হাত
|
মুসলিমে আবু সাঈদ খুদরীর (রা) বর্ণনায় বলা হয়েছে £ একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। জিব্রীল এসে জিজ্ঞেস করেন, “হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন?” জবাব দেন হাঁ জিব্রীল বলেন,
টে ৯০:৯৭ ৪ পাঠল ০5 তন +৬ পা.) 8৮ পন ,৭ 4
গত রঙ রঙ পা পা পা পে প্ পা পা পা +:৯2582 র) 8 ৯2৪ 4১5 4111)-53 43৮8540
"আমি আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ছি এমন প্রত্যেকটি জিনিস থেকে যা আপনাকে
কষ্ট দেয় এবং প্রত্যেকটি নফস ও হিংসুকের হিংসা দৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ
আপনাকে নিরাময় দান করুন। আমি তাঁর নামে আপনাকে ঝাড়ছি।”
প্রায় এ একই ধরনের আর একটি বর্ণনা মুসনাদে আহমাদে হযরত উবাদা ইবনে সামেত থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে £ নবী করীম (সা) অসুস্থ ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে গেলাম। দেখলাম তাঁর বেশ কষ্ট হচ্ছে৷ বিকেলে দেখতে গেলাম, দেখলাম তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। কিভাবে এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেছেন তা জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, জিবরীল এসেছিলেন এবং কিছু কালেমা পড়ে আমাকে ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন (তোতেই আমি সুস্থ হয়ে উঠেছি)। তারপর তিনি প্রায় ওপরের হাদীসে উদ্ধৃত কালেমাগুলোর মতো কিছু কালেমা শুনালেন। মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদে হযরত আয়েশা (রী) থেকেও এমনি ধরনের রেওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে।
ইমাম আহমাদ তীর মুসনাদে উম্মুল মুমেনীন হযরত হাকসার (রা) বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তাতে হযরত হাফসা (রা) বলেন. £ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এলেন। তখন আমার কাছে শিফা* নামের এক মহিলা বসেছিলেন!
* ভদ্র মহিলার আসল নাম ছিল লাইলা। কিন্তু তিনি শিফা বিনতে আবদুল্লাহ ন্লামে পরিচিত ছিলেন। হিজরাতের আগে. মুসলমান হন। তীর সম্পর্ক ছিল কুরাইশদের বনি আদী বংশের সাথে। হযরত জিত টা
তাফহীমুশ কুরআন ৩৩২১ আন ফানাক, আন নাস
- -___ ০ তিনি পিঁপড়া বা মাছি প্রভৃভির দংশনে কাড়-ফুঁক করভেন। রসূশে কমীম সো) | হাফসাকেও এ আমশ শিখিয়ে দাও! শিফা বিনতে শ্াবদুল্লাহঃর এ সংরান্ত একটি বরওয়ায়াত ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ উ্ৃত করেছেন' তিনি বশেহেন, নবী সান্রান্লাহ আপাইহি গুয়া সম্লোাম আমাকে বশদেন, ভুমি হাফসাকে যেমন শেখাপড়া শিখিয়েছে তেমনিভাবে এ ঝাড়-ফুঁকের আমনও শিখিয়ে দাও!
মুসনিমে আউফ ইবনে মালেক আশজায়ীর ব্রেওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে, তাতে ভিনি বণেহেন ঃ জাহেণিয়াতের যুগে আমরা ঝাড়-ফুঁক করতাম : আমরা রসুণুল্লাহ সাধারাহ জাগাইহি ওয়া সাগ্রামকে জিঞ্রেস করদাম, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তিনি বণণেন, তোমরা যে ছিনিস দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করো তা আমার সামনে পেশ করো। তার মধ্যে যদি শিরক না থাকে তাহলে তার সাহায্যে ঝাড়ায় কোন শ্মভি নেই;
মুসণিম, মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাতরয় হযরত দাবের ইবনে আবদুল্লাহর শো) রেওয়ায়াত উদ্ৃত হয়েছে: তাতে বণা হয়েছে রসূন্লাহ সাঘালাহ ানাইহি ওয়া সামাম ঝাড়-ফুঁক নিষেধ করে দিয়েছিনেন! তারপর হ্যরূত আমর ইবনে হাধমের বংশের নোকেনা এশো তারা বশনো, আমাদের কাছে এমন কিছু আমশ হিশ যার সাহায্যে আমরা বিচ্ু বা সাপ) কামানো রোগীকে ঝাভতাম, কিনতু লাপনি তা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তারপর তার! যা পড়তো তা তীকে শুশাপণো। তিনি বশণেন, "এর মধ্যে ভো আমি কোন ক্ষতি দেখহি না: তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের কোন উপক্কার করতে পারে ভাহনে তাকে অবশ্যি তা করা উচিত।” জাবের ইবনে আবদুগ্লাহর রো) দ্বিতীয় হাদীসটি মুসনিমে উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বা হয়েছে 8 হাযম পরিবারের ণোকেরা সাদে কামডানো রোগীর
:।] নিরাময়ের একটা প্রক্রিয়া জানতো! রসূহুল্রাহ (সা) তাদেরকে তা প্রয়োগ করার অনুমতি
দেন। মুসনিম, মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজায় হযরত আয়েশা (দা) বর্ণিত রেওয়ায়াতটিও একথা সমর্ধন করে। তাতে ধশা হয়েছে ৪ রসুুপ্াহ সো) আনসারদের একটি পরিবারকে প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ে ঝাড়-ফুঁক কর্মার অনুমতি দিয়েছিশেন : মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযাঁ, ইধনে মাদাহ ও মুসণিমেও হযরত আনাস (রা) থেকে প্রায় এ একই ধরনের একটি রেওয়ায়াত উদ্ভৃত হয়েছে! তাতে বণা হয়েছে, রসুখ্লাহ সো) বিষাক্ত প্রাণীদের কামড়, পিপড়ার দংশন ও নজর পাখার জন্য ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছিণেন।
মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাহ ও হাকেম হযরত উমাইর মাওণা আহীন মাহাম রো) থেকে একটি রেওয়ায়াত উহ্বৃত করেছেন : তাতে তিনি বলেন, জাহে* যুগে আমি একটি আমশ জানতাম' তার সাহায্যে আমি ঝাড়-ফুঁক করতাম: আমি রসূণুল্লাহ সাঘ্রাল্লাহ আনাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে তা পেশ করশাম। তিনি বণশেন, উমুক উমুক জিনিস এ থেকে বেন্ধ করে দা, এরপর যা থাকে তার সাহায্যে তুমি ঝাড়তে পাঞ়ো
মুআন্তায় বনা হয়েছে হযরত আবু বকর (রা) তাঁর মেয়ে হযরত আশেয়া (রা)-এর খরে
।] গেণেন। দেখনেন তিনি অসুস্থ এবং একটি ইহুদী মেয়ে তাঁকে ঝাড়-ফুঁক করছে; এ দৃশ্য
দেখে তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব পড়ে ঝাড়ো। এ থেকে দানা গেনো, আহনি কিতাবরা যদি তাওরাত বা ইন্সিনের আয়াত পড়ে ঝাড়-ফুঁক করে তাহণে তা ভায়েয।
তাফহীমুল কুরআন ৫৩৩১ আল ফালাক, আন নাস
] বান এর জবাবে বলা যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিকিতসা ও ওঁধধ ব্যবহার করতে কখনো নিষেধ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, আল্লাহ প্রত্যেক রোগের ওঁষধ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তোমরা রোগ নিরাময়ের জন্য ওষধ ব্যবহার করো। রসূল (সা) নিজেও লোকদেরকে কোন কোন রোগের ওঁষধ বলে দিয়েছেন। হাদীস গ্রন্থসমূহে সংকলিত 'কিতাবৃত তিব* (চিকিৎসা অধ্যায়) পাঠ করলে একথা জানা যেতে পারে। কিন্তু ওঁষধও আল্লাহর হুকুম ও অনুমতিক্রমেই উপকারী হতে পারে। নয়তো ওঁষধ ও চিকিতসা যদি সব অবস্থায় উপকারী হতো তাহলে হাসপাতালে একটি রুগীও মরতো না। এখন চিকিতসা ও ওঁষধের সাথে সাথে যদি আগ্াহর কালাম ও তাঁর আসমায়ে হুসনা (ভালে ভালো নাম) থেকে ফায়দা হাসিল করা যায় অথবা যেসব জায়গায় চিকিৎসার কোন সুযোগ সুবিধা নেই সেখানে যদি আল্লাহর কালামের আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর পবিত্র নাম ও গুণাবলীর সহায়তা লাভ করা হয় তাহ এ পদক্ষেপ একমাত্র বন্তুবাদীরা ছাড়া আর কারো কাছে বিবেক বিরোধী মনে হবে না।* তবে যেখানে চিকিৎসা ও ওঁষধ ব্যবহার করার সুযোগ সুবিধা লাভ করা সপ্ভব হয় সেখানে জেনে বুঝেও তা গ্রহণ না করে শুধুমাত্র ঝাড়-ফুঁকের ওপর নির্ভর করা কোনক্রমেই সঠিক পদক্ষেপ বলে স্বীকৃতি পেতে পারে না। আর এভাবে একদল লোককে ম্াদুলি তাবীজের দোকান খুলে সুযোগ মতো দু'পয়সা কামাই করার অনুমতিও কোনক্রমেই দেয়া যেতে পারে না। |
এ ব্যাপারে অনেকে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণিত একটি হাদীস থেকে যুক্তি প্রদর্শন করে থাকেন। হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ
ও ইবনে মাজায় উদ্ধৃত হয়েছে। বুখারীতে উদ্ধৃত ইবনে আরাসের (রা) একটি বর্ণনাও এর সমর্থন করে। এতে বলা হয়েছে £ রসূলে করীম (সা) কয়েকজন সাহাবীকে একটি অভিযানে পাঠান। হযরত আবু সাঈদ খুদরীও (রা) তীদের সাথে ছিলেন! তাঁরা পথে একটি আরব গোত্রের পল্লীতে অবস্থান করেন। তারা গোত্রের লোকদের কাছে তাঁদের মেহমানদারী করার আবেদন জানান। কিন্তু তারা অস্বীকার করে। এ সময় গোত্রের সরদারকে বিচ্ছু কামড় দেয়। লোকেরা এ মুসাফির দলের কাছে এসে আবেদন জানায়, তোমাদের কোন ওঁষধ বা আমল জানা থাকলে আমাদের সরদারের চিকিৎসা করো। হযরত
* বস্তুবাদী দুনিয়ার অনেক ডাক্তারও একথা স্বীকার করেছেন বে, দোয়া ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ মানসিক সংযোগ রোগীদের রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর উপাদান। আমার নিজের জীবনেও আমি এ ব্যপারে দু'বার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। ১৯৪৮ সালে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আমার মৃত্রনালিতে একটি পাথর সৃষ্টি হয়। যোল ঘন্টা পর্যন্ত পেশাব আটকে থাকে। আমি আল্লাহর কাছে দোয়৷ করি, হে আল্লাহ! আমি জালেমদের কাছে চিকিৎসার জন্য আবেদন করতে চাই না। ভূমিই আমার চিকিৎসা করো। কাজেই পেশাবের রাস্তা থেকে পাথরটি সরে যায় এবং পরবর্তী বিশ বন্ছর পর্যস্ত সরে থাকে। “তারপর ১৯৬৮ সালে সেটি আবার কষ্ট দিতে থাকে। তখন অপারেশন করে তাকে বের করে ফেলা হয়। আর একবার ১৯৫৩ সালে আমাকে থেফতার করা হয়। সে সময় আমি কয়েক মাস থেকে দুপায়ের গোছায় দাদে আক্রান্ত হয়ে ভীষণ কষ্ট পেতে থাকি। কোন রকম চিকিৎসায় আরাম পাচ্ছিলাম না? গ্েফতারীর পর আল্লাহর কাছে ১৯৪৮ সালের মতো আবার সেই একই দোয়া করি। এরপর কোন প্রকার চিকিৎসা ও উষধ ছাড়াই সমস্ত দাদ একেবারে নিরূল হয়ে যায়। তারপর আর কখনো এ রোগে আক্রান্ত, হইনি।
তাফহীমুল কুরআান আন ফালাক, আন নাস
লুল করতে অস্বীকার করেছো, তাই আমাদের কিছু দেবার ওয়াদা না করলে আমরা চিকিৎসা করবো না। তারা একটি ছাগলের পাল (কোন কোন বর্ণনা মতে ৩০টি ছাগল) দেবার ওয়াদা করে। ফলে হযরত আবু সাঈদ সরদারের কাছে যান। তার ওপর সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁক দিতে থাকেন এবং যে জায়গায় বিচ্ছু কামড়েছে সেখানে নিজের মুখের লালা মলতে থাকেন।* অবশেষে বিষের প্রভাব খতম হয়ে যায়। গোত্রের লোকেরা তাদের ওয়াদা মতো ছাগল দিয়ে দেয়। কিন্তু সাহাবীগণ নিজেদের মধ্যে বলতে থাকেন, রসূলুল্লাহ সাল্লা্াহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস না করে এ ছাগলগুলো থেকে কোন ফায়দা হাসিল করা যাবে না৷ কারণ, এ কাজে কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয কিনা তাতো জানা নেই। কাজেই তাঁরা নবী করীমের (সা) কাছে আসেন এবং সব ঘটনা বয়ান করেন। তিনি হেসে বলেন, তোমরা কেমন করে জানলে এ সূরা ঝাড়-ফুঁকের কাজেও লাগতে পারে? ছাগল নিয়ে নাও এবং তাতে আমার্ ভাগও রাখো।
কিন্তু তিরমিযী বর্ণিত এ হাদীস থেকে মাদুলি, তাবীজ ও ঝাঁড়-ফুঁকের মাধ্যমে রীতিমতো চিকিৎসা করার জন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কায়েম করার অনুমতি প্রমাণ করার আগে তদানীন্তন আরবের অবস্থাও সামনে রাখতে হবে। তৎকালীন আরবের এ অবস্থার চাপেই হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) এ কাজ করেছিলেন। রসূলে করীমও (সা) একে শুধু জায়েষই ঘোষণা করেননি বরং এতে নিজের অংশ রাখার হুকুমও দিয়েছিলেন, যাতে তার জায়েয ও নাজায়েয হবার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লোকদের মনে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ না থাকে। আসল ব্যাপার হচ্ছে, আরবের অবস্থা সেকালে যেমনটি ছিদদ আজকেও তেমনটিই রয়ে গেছে। পঞ্চাশ, একশো, দেড়শো মাইল চলার পরও একটি জনবসতি চোখে পড়ে না। জনবসতিগলোও ছিল ভিন্ন ধরনের । সেখানে কোন হোটেল, সরাইখানা বা দোকান ছিল না। মুসাফিররা এক জনবসতি থেকে রওয়ানা হয়ে কয়েকদিন পরিশ্রম করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অন্য বসতিতে পৌঁছে যে খাবার-দাবার কিনে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবে, এ ধরনের কোন ব্যবস্থাও সেকালে ছিল না। এ অবস্থায় আরবের প্রচলিত রীতি ছিল, মুসাফিররা এক জনবসতি থেকে আর এক জনবসভিতে পৌঁছলে সেখানকার লোকেরাই তাদের মেহমানদারী করতো। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানালে মুসাফিরদের মৃত্যু অবধারিত হয়ে উঠতো। কাজেই এ ধরনের কার্যকলাপ আরবে অত্যন্ত নিন্দনীয় মনে করা হতো। এ কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সাহাবীগণের এহেন কার্যকলাপকে বৈধ গণ্য করেন। গোত্রের লোকেরা যখন মুসাফিরদের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তাদের সরদারের চিকিতসা করতেও তাঁরা অস্বীকার করেন এবং পরে বিনিময়ে কিছু দেয়ার শর্তে তাঁর চিকিতসা করতে রাজী হন। তারপর তাদের একজন আল্লাহর ওপর ভরসা করে সুরা ফাতেহা পড়েন এবং সরদারকে ঝাড়-ফুঁক করেন। এর ফলে সরদার সুস্থ হয়ে ওঠে। ফলে গোত্রের লোকেরা চুক্তি মোতাবেক পারিশ্রমিক এনে তাঁদের সামনে হাধির করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হালাল গণ্য করেন।
* হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) যে এ আমলটি করেছিলেন এ ব্যাপারে অধিকাংশ হাদীসে সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই! এমন কি হযরত আবু সাঈদ নিজে এ অভিযানে শরীক ছিলেন কি না একথাও সেখানে সুস্পষ্ট 10884১৪৯৮//৭০:৪৭/০৪৯২১৪৭ ্িঃ
তারহীমুল কুরআন ৩৩০ আল ফালাক, আন নাস
পি ইইইইউইইউিিিি ইডি হজরত আছে তাতে রসূলে করীমের (সা) বক্তব্যে বলা হয়েছে 11 4১-1-১৯।+/০। 4111 ০০৪৫ তোমরা অন্য কোন আমল না করে আল্লাহর কিতাব পড়ে পারিশ্রমিক নিয়েছো, এটা তোমাদের জন্য বেশী ন্যায়সংগত হয়েছে। তাঁর একথা বলার কারণ হচ্ছে, অন্যান্য সমস্ত আমলের তুলনায় আল্লাহর কালাম শ্েষ্ঠ৷ তাছাড়া এভাবে আরবের সংশ্লিষ্ট গোত্রটির ওপর ইসলাম প্রচারের হকও আদায় হয়ে যায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কালাম এনেছেন তার বরকত তারা জানতে পারে।- যারা শহরে ও খ্রামে বসে ঝাড়-ফুঁকের কারবার চালায় এবং একে নিজেদের অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে পরিণত করে তাদের জন্য এ ঘটনাটিকে নজীর বলে গণ্য করা যেতে পারে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও প্রথম যুপের ইমামগণের মধ্যে এর কোন নজীর পাওয়া যায় না।
সুরা ফাতেহার সাথে এ সুক্রা দুটির সম্পর্ক
সূরা জাল ফালাক ও সূরা আন নাস সম্পর্কে সর্বশেষ বিবেচ্য বিষয়টি হচ্ছে, এ সুরা দু্টর সাথে কুরআনের প্রথম সূরা আল ফাতেহার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কুরআন মজীদ যেভাবে নাধিল হয়েছে, লিপিবদ্ধ করার সময় নুযুলের সেই ধারাবাহিকতার অনুসরণ করা
সহজ-_সরল-সত্য পথটি দেখিয়ে দাও। জবাবে সোজা পথ দেখাবার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে পুরো কুরআন মজীদটি নাধিল করা হয় একে এমন একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে শেষ করা হয় যখন বান্দা সকাল বেলার রব, মানব জাতির রব, মানব জাতির বাদশাহ ও মানব জাতির ইলাহ মহান আল্লাহর কাছে এ মর্মে আবেদন জানায় যে, সে প্রত্যেক সৃষ্টির প্রত্যেকটি ফিতনা ও অনিষ্টকারিতা থেকে সপ্রক্ষিত থাকার জন্য একমাত্র তাঁরই কাছে আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে জিন ও মানব জাতির অন্তরভুক্ত শয়তানদের প্ররোচনা থেকে সে একমাত্র তাঁর-ই আশ্রয় চায়। কারণ, সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে সে-ই হয় সবচেয়ে বড় বাধা। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সূরা ফাতেহার সৃচনার সাথে এই শেষ দুই সূরার যে সম্পর্ক তা কোন গতীর দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তির অগোচরে থাকার কথা নয়।
2৯৮ ৩4৮০ পরম করম্ণাময় মেহেরবান আল্লাহর লামে
|]. বলো,১ আশ্রয় চাচ্ছি আমি প্রভাতের রবের,৩ এমন প্রত্যেকটি জিনিসের '| অনিষ্টকারিতা থেকে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন।৪ এবং রাতের অন্ধকারের |.. অনিষ্টকারিতা থেকে, যখন তা হেয়ে যায়।৫ আর গিরায় ফৃকারদানকারীদের (বা
| কারিনীদের) অনিষ্কারিতা থেকে।৬ এবং হিংসুকের অনিষ্টকারিতা থেকে, যখন সে হিংসা করে।?
১. রিসানাতের প্রচারের জন্য নুবী সাল্লাল্লাহু আনাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অহীর || মাধ্যমে যে পয়গাম নাধিন হয় ৬ (বলো) শব্দটি যেহেতু তার একটি অংশ, তাই || একথাটি প্রথমত রসৃনুল্লাহ সাগ্ান্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সযোধন করে ৃ হলেও তার পরে প্রত্যেক মু'মিনও এ সব্বোধনের আওতাভুক্ত হয়।
২. জাশ্রয় চাওয়া কাজটির তিনটি অপরিহার্য অংশ রয়েছে। এক, আশ্রয় চাওয়া। দুই, যে আশ্রয় চায়। তিন, যার কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়। আশ্রয় চাওয়ার অর্থ, কোন জিনিসের ব্যাপারে ভয়ের অনুভূতি জাগার কারণে নিজেকে তার হাত থেকে বাঁচাবার জন্য অন্য || কারো হেফাজতে চনে যাওয়া, তার অন্তরান গ্রহণ করা, তাকে জড়িয়ে ধরা বা তার ]. ছায়ায় চলে যাওয়া। আশ্য়প্রা্থী অবশ্যি এমন এক ব্যক্তি হয়, যে অনৃভব.করে যে, সে যে ।| জিনিসের ভয়ে তীত তার মোকাবেণা করার ক্ষমতা তার নেই। বরং তার হাত থেকে [| বাচার জন্য তার অন্যের আশ্রয় গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারপর যার আশ্রয় চাওয়া হয় সে |. অবশ্যি এমন কোন ব্যক্তিত্ব বা সন্তা হয় যার ব্যাপারে আশ্রয় গ্রহণকারী মনে করে সেই | ভয়ংকর জিনিস থেকে সে-ই তাকে বাঁচাতে পারে। এখন এক প্রকার আশ্রয়ের প্রাকৃতিক |. আইন অনুযায়ী কার্যকারণের জগতে কোন অনুভূত জড় পদার্থ, ব্যক্তি বা শক্তির কাছে |, গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য কোন দুর্গের আশ্রয় || ই১8848/45098/88818888888833550 7
তাফহীমুল কুরআন ৃ ৩৩১ সূরা আল ফালাক
ব্যক্তি, জাতি বা রাষ্ট্রের আশ্রয় গ্রহণ করা অথবা রোদ থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য কোন গাছ বা দালানের ছায়ায় আশ্রয় নেয়া। এর বিপরীতে দ্বিতীয় প্রকারের আশ্রয় হচ্ছে, প্রত্যেক ধরনের বিপদ, প্রত্যেক ধরনের বস্তুগত, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষতি এবং ক্ষতিকর বস্তু থেকে কোন অতি প্রাকৃতিক সত্তার আশ্রয় এ বিশ্বাসের ভিত্তিতে গ্রহণ করা যে ইন্দ্রিয় বহির্ভূত অননুভূত পদ্ধতিতে তিনি আশ্রয় গ্রহণকারীকে অবশ্যি সঞ্তক্ষণ করতে পারবেন।
শুধু এখানেই নয়, কুরআন ও হাদীসের যেখানেই আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার কথা এসেছে, সেখানেই এ বিশেষ ধরনের আশ্রয় চাওয়ার অর্থেই তা বলা হুয়েছে। আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে এ ধরনের আশ্রয় প্রার্থনা না করাটাই তাওহীদী বিশ্বাসের অপরিহার্য অংগ। মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সম্তা যেমন জিন, দেবী ও দেবতাদের কাছে এ ধরনের আশ্রয় চাইতো এবং আজো চায়। বন্তুবাদীরা এ জন্য বন্তুগত উপায়-উপকরণের . দিকে মুখ ফিরায়। কারণ, তারা কোন অতি প্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু মুমিন যেসব আপদ-বিপদ ও বালা-মুসিবতের মোকাবেলা করার ব্যাপারে নিজেকে অক্ষম মনে করে, সেগুলোর র্যাপারে সে একমাত্র আল্লাহর দিকে মুখ ফিরায় এবং একমাত্র তাঁরই সঙ্গে আশ্রয় প্রার্থনা করে। উদাহরণ স্বরূপ মুশরিকদের ব্যাপরে কুরআন মজীদে বদা হয়েছে $
চিনে প্ ৪৪৭৪৩ ৪ পপ পপ তব -$20 ১2০৯8 2৯৯০০০০০৯০৪,
"আর ব্যাপার হচ্ছে এই যে, মানব জাতির অন্তরতূক্ত কিছু লোক জিন জাতির অন্তরতুক্ত কিছু লোকের কাছে আশ্রয় চাইতো 1” (আল জিন, ৬) এর ব্যাখ্যায় আমরা সূরা . জিনের ৭ টীকায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আরাস (রা) বর্ণিত একটি হাদীস উদ্কৃত করছি! তাতে বলা হয়েছে £ আরব মুশরিকদের যখন কোন রাতে কোন জনমানবহীন উপ্রত্যকায় রাত কাটাতে হতো তখন তারা চিৎকার করে বলতো £ "আমরা এ উপত্যকার রবের অর্থাৎ "এ উপত্যকার ওপর কর্তৃত্বশালী জিন বা এ উপত্যকার মালিক) আশ্রয় চাচ্ছি।” অন্যদিকে, ফেরাউন সম্পর্কে, বলা হয়েছে £ হযরত মূসার (আ) পেশকৃত মহান নিশানীগুলো দেখে (1১৫১৮১:$) "নিজের শক্তি সামর্থের ওপর নির্ভর করে সে সদর্পে নিজের ঘাড় ঘুরিয়ে থাকলো” (োয যারিয়াত, ৩৯)। কিন্তু কুরআনে আল্লাহ বিশ্বাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মনীতি বর্ণনা প্রসংগে বলা হয়েছে £ তারা বস্তগত, নৈতিক বা আধ্যাত্মিক যে কোন জিনিসের ভীতি অনুভব করলে' তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে। কাজেই হযরত মারয়াম সম্পর্কে বলা হয়েছে £ যখন অকন্যাৎ নির্জনে আল্লাহর ফেরেশতা একজন মানুষের বেশ ধরে তাঁর কাছে এলেন (তিনি তাঁকে আল্লাহর ফেরেশতা বলে জানতেন না) তখন তিনি বললেন £
38555১551৫১ ০১৮০ ৮৮ শ্যদি তোমার আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে আমি দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি!”
(মারয়াম, ১৮) হযরত নৃহ (আ) যখন আল্লাহর কাছে অবাস্তব দোয়া করলেন এবং জবাবে আল্লাহ তাঁকে শাসালেন তখন তিনি সংগে সংগেই আবেদন জানালেন £
তা-১৯/৪৩-_ আমপারা
০০ সূরা আল ফালাক
ররর বে ছিন রে নার জান নেই জেন কন নিস তেনর কাছে চাওয়া থেকে আমি তোমার পানাহ চাই।” ছেদ, ৪৭) হযরত মৃসা (আ) যখন বনি ইসরাঈলদের গাতী যবেহ করার হুকুম দিলেন এবং তারা বনলো, আপনি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা করছেন? তখন তিনি তাদের জবাবে বললেন £
১১৮৯0 5 058014015 2 "আমি ধূর্ব-অজ্রদের মতো কথা বলা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি” (আল বাকারাহ, ৬৭)
হাদীস খশ্থগুলোতে রসূলুল্লাহ সার্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যেসব স্তাআাউউয” উদ্ধৃত হয়েছে সবগ্তলো এ একই পর্যায়ের। উদাহরণ স্বরূপ তাঁর নিম্নোক্ত দোয়াগুলো দেখা যেতে পারে £
২0০০০০4১০০০ ০4০ 4০ ৮০৪৯০ ০৯০৮১
৯7405 ৮৫ ও ৫৯৫ ০৯৮৫
(৮99:27655855572525585871555
স্হযরত আয়েশা রো) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের দোয়াশুলোতে বলতেন $ঃ হে আল্লাহ! আমি যেসব কাজ করেছি এবং যেসব কাজ
করিনি তা থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। অর্থাৎ কোন খারাপ কাজ করে থাকলে তার খারাপ ফল থেকে পানাহ চাই এবং কোন কাজ করা উচিত ছিল কিন্তু তা আমি করিনি, যদি এমন ব্যাপার ঘটে থাকে তাহলে তার অনিষ্ট থেকেও তোমার পানাহ চাই। অথবা যে কাজ করা উচিত নয় কিন্তু তা আমি কখনো করে ফেলবো, এমন সম্ভাবনা থাকলে তা থেকেও তোমার আশ্রয় চাই।” (মুসলিম)
445424401০1 404-5705 ৬৯০৩৪০৯৮৯০৭ ০০
55858 45205 /৯৯ 4০৯১ এ০৪ ১5এ:৮০ 411
(0429 রা রানার রর রাতে ছিল ঃ হে আল্লাহ! তোমার যে নিয়ামত আমি লাভ করেছি তা যাতে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে না নেয়া হয়, তোমার কাছ থেকে যে নিরাপত্তা আমি লাভ করেছি তা থেকে যাতে আমাকে বঞ্চিত না করা হয়, তোমার গযব যাতে অকম্যাৎ আমার ওপর সই আশ্রয় চাচ্ছি” (মুসলিম)।
এ
41114952179 4245 4041 ৮14০5 4101 4৯59 0141551০১৪১ ০০
তাফহীমুল কুরআন ও সূরা আন ফালাক
পচ? হু বি £ পভ টি
0. 5 রি শ্যায়েদ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন £ যে ইলম উপকারী নয়, যে হৃদয় তোমার ভয়ে ভীত নয়, যে নফস কখনো তৃত্তি লা করে না এবং যে দোয়া কবুল করা হয় না, আমি সেসব থেকে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি* (মুসলিম)।
৮৮5
5৮৬৮০০০৮৭০০০০৬০৩৫৮স ডি
৮5৭
িরর্ি 9001 রর পর
হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন ঃ হে আল্লাহ! আমি ক্ষুধা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। কারণ, মানুষ যেসব জিনিসের সাথে রাত অতিবাহিত করে তাদের মধ্যে ক্ষুধা সবচেয়ে খারাপ জিনিস। আর উ্ীগিলিরে ভোজ জহি দাড়ি রর
"হযরত আনাস (রা) থেকে বরণিত। নবী আরা মালাই ওযা সারার বনভেনও হে আল্লাহ! আমি শ্বেতকুষ্ঠ, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ ও সমস্ত খারাপ রোগ থেকে তোমার আশ্রয় চাই।” আবু দাউদ)
০০৮৫৭। ০১2 ৬০০৪ 00৫ 715 4815 4141 1০ েইীএ 01 ২০০০০ ০ -১৪১10০১০। 75350802555 ১০১৮2 ০০1৫ স্আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্াল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্োক্ত কথাগুলো . সহ দোয়া চাইতেন ঃ হে আল্লাহ! আমি আগুনের ফিত্না এবং ধনী ও দরিদ্র হওয়ার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই” (তিরমিযী ও আবু দাউদ)। 1114548445445400 ০৮ পা) 00৫4০৩৪৯৪০০ (৬১২০৪)৭ [২ ০৮১১০ ৯৯১। ০/০৫-৯৭ ৩৮ ৩০০1 ৮ শকুতবাহ ইবনে মালেক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! জমি অসৎ চরিত্র, অসৎ কাজ ও অসৎ ইচ্ছা থেকে তোমার-আশ্রয় চাই।»
তাফহীমুল কুরআন 758 সূরা আল ফালাক
নর শাকান, ইবনে হমাইদ রূহ সঙপক্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, আমাকে কোন দোয়া বলে দিন। জবাবে তিনি বলেন ঃ
রা লা ৪ পা ০1 শর) চি
হব
পাপ পাপ স ৮৩
১৪ ০১৩ ৭ ০৯২ ১৯ ০৮? ভ্োশীশি
-০৪১১০১ ১০৩৭ ০318১ ৮৪ *০০০এ *হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই আমার শ্রবণশক্তির অনিষ্ট থেকে, আমার এবং আমার যৌন্ ক্ষমতার অনিষ্ট থেকে” (তিরমিযী ও আবু দাউদ)। 5 পল রঙ ১ ক 601 1১:17 4315 4141 ০44141৭9396 41৮০২ ০০৪ ০৮০ পা ৯৪ পণ এ ঠিপিক ক রী ল ৯ বি লং পলী পা লি লসলা প্ লে পতি
টিতে পপ:
৮০৫৮1২205৯১) ০০০৪০ ০৯০৪ ১৩১২ ০1৬০ ১ (৮ ৬১৮১২) ০৯০। 12322
"আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন £ হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, কৃড়েমি, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আর তোমার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে এবং জীবন
ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। (মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে ) আর খাণের বোঝা থেকে এবং লোকেরা আমার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে, এ থেকে তোমার
কাছে আশ্রয় চাই।” (বুখারী ও মুসলিম). ১4240০০4০১০ ১০০৮৪ ৪৯০ ৭১১৬০
১০০০৫] 410 ০৫৪ 2 008755955০95৯5০১ ৪৪৮৯ ০৭০০1 5০) তর উপ 55১ 825৩4 রতু পপ
(44০০) ০১১৭ এএ১ ৮৮০ ৩৯ ৪১৯ ৮৪ ৯৮৯৪৯ ৮৮
স্থাওলা বিনতে হুকাইম সুলামীয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একথা বলতে শুনেছি £ যে ব্যক্তি কোন নতুন
মনযিলে নেমে একথাগুলো বলবে-_আমি সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আল্লাহর
নিষ্লংক কালেমাসমূহের আশ্রয় চাই, সেই মনযিল থেকে রওয়ানা হবার আগে পর্যন্ত
ত্রাকে কোন জিনিস ক্ষতি করতে পারবে না।” (মুসলিম) ট
প। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে যেভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন হাদীস থেকে তার কয়েকটি নমুনা এখানে আমরা তুলে ধরলাম। এ থেকে 18:85585564590365585848088584 17
প্ প্
তাফহীমুল কুরআন | সূরা আল ফালাক
জা হয়ে নিজের ওপর তরসা করাও তার কাজ নয়। পু -
বল) ঠ ০ ৩. মূলে 4৯1| ০১ (বিল ফালাক) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। “ফালাক” শব্দের আসল মানে হচ্ছে ফাটানো, চিরে ফেলা বা ভেদ করা। কুরআন ব্যাখ্যাদাতাদের বিপুল সংখ্যক অংশ এ শব্দটির অর্থ গ্রহণ করেছেন, রাতের অন্ধকার্ চিরে প্রভাতের শুত্রতার উদয় হওয়া! কারণ, আরবীতে "্ফালাকুস সুবহ” (৯৭1 $-5) শব্দ "ভাতের উদয়” অর্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কুরআনেও মহান আল্লাহর জন্য ৮+-১। 314৯ (ফালেকুন ইসবাহ) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে, "যিনি রাতের আঁধার চিরে প্রভাতের উদয় করেন।” (আল আন*আম, ৯৬) “ফালাক” শব্দের দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে সৃষ্টি করা। কারণ দুনিয়ায় যত জিনিসই সৃষ্টি হয়, সবগুলোই কোন না কোন জিনিস ভেদ করে বের হয়। বীজের বুরু চিরে সব ধরনের গাছ ও উত্তিদের অংকুর বের হয়। সব ধরনের প্রাণী মায়ের গর্ভাশয়' চিরে অথবা ডিম ফুটে কিংবা অন্য কোন আবরণ তেদ করে বের হয়। সমস্ত ঝরণা ও নদী পাহাড় বা মাটি চিরে বের হয়। দিবস বের হয় ধারা মেঘের স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে নামে। মোটকথা, অস্তিত্ব জগতের -প্রতিটি কোন না কোনভাবে আবরণ ভেদ করার ফলে অনপ্তিতৃ থেকে অস্তিত্ব লাভ করে। এমনকি পৃথিবী ও সমথ আকাশ মণ্ডলও প্রথমে ,একটি .প ছিল্। তারপর তাকে বিদীর্ণ করে পৃথক পৃথক অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। ০১ ৮ ০০4৮5 যা তনু সুপাকৃত ছিল, পরে আমি এদেরকে আলাদা আলাদা করে দিয়েছি। (আল আহিয়া, ৩০) কাজেই এ অর্থের প্রেক্ষিতে ফালাক শব্দটি সমস্ত সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। এখন এর প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, আমি প্রভাতের মালিকের আশ্রয় চাচ্ছি। আর দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করলে এর মানে হবে, আমি সমগ্র সৃষ্টি জগতের রবের আশ্রয় চাচ্ছি। এখানে আল্লাহর মূল সন্তাবাচক নাম ব্যবহার না করে তাঁর গুণবাচক নাম প্রব” ব্যবহার করা হয়েছে। এর কারণ, আশ্রয় চাওয়ার সাথে আল্লাহর প্রব” অর্থাৎ মালিক, প্রতিপালক, প্রভু ও | পরওয়ারদিগার হবার গুণাবলীই বেশী সম্পর্ক রাখে। তাছাড়া প্ররুল ফালাক” এর অর্থ যদি প্রভাতের রব ধরা হয় তাহলে তাঁর আশ্রয় চাওয়ার মানে হবে, যে রব অন্ধকারের আবরণ তেদ করে প্রভাতের আলো বের করে আনেন আমি তীর আশ্রয় নিচ্ছি। এর ফলে তিনি বিপদের অন্ধকার জাল ভেদ করে আমাকে নিরাপত্তা দান করবেন। আর যদি এর অর্থ রব ধরা হয়, তাহলে এর মানে হবে, আমি সমগ্র সৃষ্টির মালিকের আশ্রয় নিচ্ছি। তিনি নিজের সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আমাকে বাঁচাবেন।
৪. অন্য কথায় সমথ অনিষ্টকারিতা থেকে আমি তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি। এ বাক্যে চিন্তা করার মতো বিষয় আছে। প্রথমত অনিষ্টকারিতা সৃষ্টির ব্যাপারটিকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা হয়নি। বরং সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে। আর অনিষ্টকারিতাকে সম্পর্কিত করা হয়েছে সৃষ্টির সাথে। অর্থাৎ একথা বনা হয়নি যে, আল্লাহ যে অনিষ্টকারিতাসমূহ সৃষ্টি করেছেন সেগুলো থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। বরং বলা হয়েছে, আল্লাহ যেসব জিনিস সৃষ্টি করেছেন, তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। এ থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ কোন সৃষ্টিকে অনিষ্টকারিতার জন্য সৃষ্টি
তাফহীমুল কুরজান সূরা আল. ফালাক
কিরেনন। বরং তাঁর প্রত্যেকটি কাজ কল্যাণকর বাত প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্যই হয়ে থাকে। তবে সৃষ্টির মধ্যে তিনি যেসব গুণ সমাহিত করে রেখেছেন, যেগুলো তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন, সেগুলো থেকে অনেক -সময় এবং অনেক ধরনের সৃষ্টি থেকে প্রায়ই অনিষ্টকারিতার প্রকাশ ঘটে।
দ্বিতীয়ত, যদি শুধু একটি মাত্র বাক্য বলেই বক্তব্য শেষ করে দেয়া হতো এবং পরবর্তী বাক্যগুলোতে বিশেষ বিশেষ ধরনের সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে আলাদা আলাদাভাবে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করার কথা নাই-বা বলা হতো তাহলেও এ বাক্যটি বক্তব্য বিষয় পুরোপুরি প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কারণ, এখানে সমস্ত সৃষ্টিলোকের অনিষ্টকারিতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে নেয়া হয়েছে। এই ব্যাপকভাবে আশ্রয় চাওয়ার পর আবার কতিপয় বিশেষ অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা স্বতক্ুর্তভাবে এ অর্থই প্রকাশ করে যে, আমি স্বাভাবিকভাবে আল্লাহর প্রত্যেকটি সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে তার. আশ্রয় চাচ্ছি, তবে বিশেষভাবে সূরা আল ফালাকের অবশিষ্ট আয়াতসমূহে ও সুরা আন নাসে যেসব অনিষ্টকারিতার কথা বনা হয়েছে, সেগুলো এমন পর্যায়ের যা থেকে আমি আল্লাহর নিরাপত্তা লাভের বড় বেশী মুখাপেক্ষী ।
তৃতীয়ত, সৃষ্টিলোকের অনিষ্টকারিতা থেকে পানাহ লাভ করার জন্য সরচেয়ে সংগত ও প্রভাবশালী আশ্রয় চাওয়ার ব্যাপার যদি কিছু হতে পারে, তবে তা হচ্ছে তাদের শ্রষ্টার কাছে আশ্রয় চাওয়া। কারণ, তিনি সব অবস্থায় নিজের সৃষ্টির: ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। তিনি তাদের এমন সব অনিষ্টকারিতা সম্পর্কে জানেন যেগুলো আমরা জানি, আবার আমরা জানিনা এমনসব অনিষ্টকারিতা সম্পর্কেও তিনি জানেন। কাজেই তাঁর আশ্রয় হবে, যেন এমন সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকের কাছে আশ্রয় গ্রহণ যার মোকাবেলা করার ক্ষমতা কোন সৃষ্টির নেই। তাঁর কাছে আশ্রয় চেয়ে আমরা দুনিয়ার প্রত্যেকটি সৃষ্টির জানা-অজানা অনিষ্টকারিতা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি। তাছাড়া কেবল দুনিয়ারই নয়, আখেরাতের সকল অনিষ্টকারিতা থেকেও পানাহ চাওয়াও এর অন্তরতুক্ত হয়েছে।
চতুর্থত, অনিষ্টকারিতা শব্দটি ক্ষতি, কষ্ট, ব্যথা ও যন্ত্রণার জন্যও ব্যবহার করা হয়। আবার যে কারণে ক্ষতি, কষ্ট, ব্যথা ও যন্ত্রণা সৃষ্টি হয় সে জন্যও ব্যবহার করা হয়। যেমন রোগ, অনাহার, কোন যুদ্ধে বা দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি বারা দর্ঘশিত হওয়া, সন্তানের মৃত্যু শোকে কাতর হওয়া এবং এ ধরনের আরো অন্যান্য অনিষ্টকারিতা প্রথমোক্ত অর্থের অনিষ্টকারিতা। কারণ, এগুলো যথার্থই কষ্ট ও যন্ত্রণা। অন্যদিকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কুফরী, শির্ক এবং যেসব ধরনের গোনাহ ও জুলুম দ্বিতীয় প্রকার অনিষ্টকারিতা। কারণ, এগুলোর পরিণাম কষ্ট ও যন্ত্রণা। যদিও আপাত দৃষ্টিতে এগুলো সাময়িকভাবে কোন কষ্ট ও যন্ত্রণা দেয় না বরং কোন কোন গোনাহ বেশ আরামের । সেসব গানাহ করে আনন্দ পাওয়া যায় এবং লাভের অংকটাও হাতিয়ে নেয়া যায়। কাজেই এ দু'অর্থেই অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়।
পঞ্চমত, অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার মধ্যে আরো দু'টি অর্থও রয়েছে। যে অনিষ্ট ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করছে, হে আল্লাহ! তাকে খতম করে দাও। আর যে অনিষ্ট এখনো হয়নি, তার সম্পর্কে বান্দা দোয়া করছে, হে আল্লাহ! এ অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো।
ভাফহীমুল কুরআন সূরা আল ফালাক
সৃষ্টিতে অি্কারিতা থেকে সাধারণভাবে আল্লাহর আয় চাওয়ার পর এবার কয়েকটি বিশেষ সৃষ্টির অনিষ্টকারিতা থেকে বিশেষভাবে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। মূল আয়াতে ৮-$১1১15--2 শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 'গাসেক' (৮45) এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে জ্বুকার! কুরআনে এক জায়গায় বলা' হয়েছে £ & 14241 (91 ১475 ৬। ০১৪ 4১১ নামায কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত।” (বনি ইসরাঈল, ৭৮)
আর "ওয়া কাবা” (55) মানে হচ্ছে, প্রবেশ করা বা ছেয়ে যাওয়া। রাতের অন্ধকারের অনিষ্টকারিতা থেকে বিশেষ করে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দেবার কারণ হচ্ছে এই যে, অধিকাংশ অপরাধ ও জুলুম রাতের অন্ধকারেই সংঘটিত হয়। হিংস্র জীবেরাও রাতের আঁধারেই বের হয়। আর এ আয়াতগুনো নাযিল হবার সময় আরবে রাজনৈতিক অরাজকতা যে অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল তাতে রাতের চিত্র তো ছিল-.অত্যন্ত ভয়াবহ। তার অন্ধকার চাদর মুড়ি দিয়ে লুটেরা ও আক্রমণকারীরা বের হতো। তারা জনবসতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তো লুটতরাজ ও খুনাখুনি করার জন্য যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ নাশের চেষ্টা করছিল, তারাও রাতের আঁধারেই তীকে হত্যা করার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। কারণ, এভাবে হত্যাকারীকে চেনা যাবে না। ফলে তার সন্ধান লাভ করা সম্ভব হবে না। তাই রাতের বেলা যেসব অনিষ্টকারিতা ও বিপদ-আপদ নাধিল হয় সেগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। এখানে আঁধার রাতের অনিষ্টকারিতা থেকে প্রভাতের রবের আশ্রয় চাওয়ার মধ্যে যে সৃক্্মতম সম্পর্ক রয়েছে তা কোন গভীর পর্যবেক্ষকের দৃষ্টির আড়ালে থাকার কথা নয়।
এ আয়াতের ব্যাখার ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিভিন্ন সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশার (রা) একটি বর্ণনা এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, রাতে আকাশে চীদ ঝলমল করছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম. আমার হাত, ধরে. তাঁর দিকে ইশারা করে বললেন, আল্লাহর কাছে পানাহ চাও £ ০5১ 131 3451) 13১ অর্থাৎ এ হচ্ছে সেই গাসেক ইযা ওয়াকাব (আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, হাকেম ও ইবনে মারদুইয়া)। এর অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে কেউ কেউ বলেছেন, ইযা ওয়াকাব (8918) মানে হচ্ছে এখানে ৩০৯ ঠি। (ইযা খাসাকা) অর্থাৎ যখন তার গ্রহণ হয়ে যায় অথবা চন্বপ্হণ তাকে ঢেকে ফেলে। কিন্তু কোন হাদীসে একথা বলা হয়নি যে, যখন রসূলুল্লাহ (সা) চীদের দিকে এভাবে ইশারা করেছিলেন তখন চন্দগ্রহণ চলছিল। আরবী আভিধানিক অর্থেও ২১1১1 কখনো ১৯151 হয় না। তাই -আমার মতে এ হাদীসটির সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে £ চাদের উদয় যেহেতু রাতের বেলায়ই হয়ে থাকে এবং দিনের বেলা চাঁদ আকাশের গায়ে থাকলেও উজ্জ্বল থাকে না, তাই রসূলুল্লাহ (সা). উক্তির অর্থ হচ্ছে__এর (অর্থাৎ চীদের) আগমনের সময় অর্থাৎ রাত থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাঁও। কারণ, চাদের আলো আত্মরক্ষাকারীর জন্য ততটা সহায়ক হয় না, যতটা সহায়ক হয় আক্রমণকারীর জন্য আর তা অপরাধীকে যতটুকু সহায়তা করে, য়ে অপরাধের শিকার হয় তাকে ততটুকু সহায়তা করে না। এ জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন £ .
তাফহীমুল কুরআন সূরা আল ফালাক রুরু _৮৮১৮। এও ১৩০ ৬৯ +০৯১/৬০ শ্যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন শয়তানরা. সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কাজেই শিশুদেরকে তখন ঘরের মধ্যে রাখো এবং নিজেদের গৃহপালিত পশুগুলোও বেঁধে রাখো, যতক্ষণ রাতের আধার খতম না হয়ে যায়।” ূ ৬. মূলে ১৪০1| ০৪ ০১৪ শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। 'উকাদ' (১৯০) শব্দটি ্উকদাতৃন” (৪০) শব্দের বহুবচন। এর মানে হচ্ছে গিরা। যেমন সূতা বা. বুশিতে যে গিরা দেয়া হয়।, নাফস (৬২) মানে ফুঁক দেয়া। নাফফাসাত (৯২৮৯২) হচ্ছে নাফফাসাহ (*১৮%:)-এর বহুবচন। এ শব্দটিকে +“+১-- এর ওজনে ধরা হলে এর অর্থ হবে খুব বেশী ফুঁকদানকারী। আর স্ত্রীলিংগে এর অর্থ করলে দাঁড়ায় খুব বেশী ফুঁকদানকারিনীরা অথবা ফুঁকদানকারী ব্যক্তিবর্গ বা দলেরা। কারণ আরবীতে “নফস (ব্যক্তি) ও প্জামায়াত” দেল) স্ত্রীলিংগ অধিকাংশ তথা সকল মুফাসৃসিরের মতে গিরায় ফুঁক দেয়া শব্দটি যাদুর জন্য রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। কারণ, 'যাদুকর সাধারণত কোন সূতায় বা ডোরে গিরা দিতে এবং তাতে ফুঁক দিতে থাকে। কাজেই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমি পুরুষ যাদুকর বা মহিলা যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রভাতের রবের আশ্রয় চাচ্ছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি-ওয়া সাল্লামের ওপর যখন যাদু করা হয়েছিল, তখন জিবীল আলাইহিস সালাম এসে তাঁকে সুরা আল ফালাক ও আন নাস পড়তে বলেছিলেন। এ হাদীসটি থেকেও ওপরের অর্থের সমর্থন পাওয়া যায়। এ সূরা দুটির এ একটি বাক্যই সরাসরি যাদুর সাথে সম্পর্ক রাখে। আবু মুসলিম ইসফাহানী ও যামাখশারী 'াফফাসাত ফিল উকাদ* বাক্যাংশের অন্য একটি অর্থও বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, এর মানে হচ্ছেঃ মেয়েদের প্রতারণা এবং পুরুষদের' সংকল্প, মতামত ও চিস্তা-ভাবনার ওপর তাদের প্রভাব বিস্তার। একে তারা তৃন্বনা করেছেন যাদুকরের যাদুকর্মের সাথে। কারণ, মেয়েদের প্রেমে মত্ত হয়ে পুরত্ষদ্রে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছে যায়, যেন মনে হয় কোন যাদুকর তাদেরকে যাদু করেছে। এ ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত রসাত্্ক হলেও পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাদাতাগণ এর যে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন, এটি সেই ব্যাখ্যার পরিপন্থী। আর ইতিপূর্বে আমরা ভূমিকায় এ দু'টি সূরা নাধিলের যে অবস্থার বর্ণনা দিয়ে এসেছি তার সাথে এর মিল নেই। . যাদুর ব্যাপারে অবশ্যি একথা জেনে নিতে হবে, এর মধ্যে অন্য লোকের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার জন্য শয়তান, প্রেতাত্মা বা নক্ষত্রসমূহের সাহায্য চাওয়া হয়। এ জন্য কুরআনে একে কুফরী বনা হয়েছে। ১৯০1 ৮0এ। ০৬৯2 0১৪৫ ০১০৪এএ। ৮০৪০৮০৪০০৪৫ ৪ "সুলাইমান কুফরী করেনি। বরৎ শয়তানরা কুফরী করেছিল। তারা লোকদেরকে যাদু শেখাতো।” জোল বাকারা, ১০২) কিন্তু তার মধ্যে কোন কুফরী কালেমা বা শিরকী কাজ না থাকলেও তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাকে এমন 15335854১883:5899593538853 81
তাফহীমুল কুরআন সূরা আল ফালাক
চুলা সুলভ লিল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকর জিনিস থেকে দূরে থাকো। লোকেরা জিজ্ঞেন করলো, হে আল্লাহর রসূল! সেগুলো কি? বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, যাদু, আল্লাহ্ যে প্রাণ নাশ হারাম করেছেন ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া সেই প্রাণ নাশ করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করা, জিহাদে দুশমনের মোকাবিলায় পালিয়ে যাওয়া এবং সরল সতীসাধ্বী মু'মিন মেয়েদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের দোষারোপ করা।
৭. হিহসার মানে হচ্ছে, কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ যে অনুগহ, শ্রেষ্ঠত্ব বা গুণাবলী দান করেছে তা দেখে কোন ব্যক্তি নিজের মধ্যে স্বালা অনুভব করে এবং তার থেকে ওগুলো ছিনিয়ে নিয়ে এ দ্বিতীয় ব্যক্তিকে দেয়া হোক, অথবা কমপক্ষে তার থেকে সেগুলো অবশ্যি ছিনিয়ে নেয়া হোক এ আশা করতে থাকে। তবে কোন ব্যক্তি যদি আশা করে, অন্যের প্রতি যে অনুগ্রহ করা হয়েছে তার প্রতিও তাই করা হোক, তাহলে এটাকে হিংসার সব্্্রায় ফেলা যায় না।' এখানে হিংসুক যখন হিংসা করে অর্থাৎ তার মনের আগুন নিভাবার জন্য নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে কোন পদক্ষেপ নেয়, সেই অবস্থায় তার অনিষ্টকারিতা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। কারণ, যতক্ষণ সে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না ততক্ষণ তার ভ্বালা-পোড়া তার নিজের জন্য খারাপ হলেও যার প্রতি হিংসা করা হচ্ছে তার' জন্য এমন কোন অনিষ্টকারিতায় পরিণত হচ্ছে না, যার জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া যেতে পারে। তারপর যখন কোন হিংসুক থেকে এমন ধরনের অনিষ্টকারিতার প্রকাশ ঘটে তখন তার হাত থেকে বাঁচার প্রধানতম কৌশল হিসেবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এই সাথে হিংসুকের অনিষ্টকারিতার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আরো কয়েকটি জিনিসও সহায়ক হয়। এক, মানুষ আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবৎ আল্লাহ না চাইলে কেউ তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, একথায় |॥ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে। দুই, হিংসুকের কথা শুনে সবর করবে। বেসবর হয়ে এমন কোন 'কথা বলবে না বা কাজ করতে থাকবে না, যার ফলে সে নিজেও নৈতিকভাবে হিংসুকের সাথে একই সমতলে এসে দীড়িয়ে যাবে। তিন, হিংসুক আল্লাহভীতি বিসর্জন দিয়ে বা চরম নির্লজ্জতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে যতই অন্যায়-অশানীন আচরণ করতে থাকুক না কেন, যার প্রতি হি্সী করা হচ্ছে সে যেন সবসময় তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। চার, তার চিস্তা যেন কোন প্রকারে মনে ঠাঁই না দেয় এবং তাকে এমনভাবে উপেক্ষা, করবে যেন সে নেই। কারণ, তার চিন্তায় মগ্ন হয়ে যাওয়াই হিংসুকের হাতে পরাজয় বরণের পূর্ব লক্ষণ। পীঁচ, হিংসুকের সাথে অসম্যবহার করা তো. দৃর্রের কথা, কখনো যদি এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়ে যায় যে, যার প্রতি হিংসা করা হচ্ছে যে হিংসাকারীর সাথে সঘ্যবহার ও তার উপকার করতে পারে, তাহলে তার অবশ্যি তা করা উচিত। হিংসুকের মনে যে স্বালাপোড়া চপছে, প্রতিপক্ষের এ সদ্যবহারে তা কতটুকু প্রশমিত হচ্ছে বা হচ্ছে না সেদিকে নজর দেবার কোন প্রয়োজন নেই: ছয়, যে ব্যক্তির প্রতি হিংসা করা হচ্ছে সে তাওহীদের আকীদা সঠিকভাবে উপলব্ধি করে তার ওপর অবিচল থাকবে। কারণ, যে হৃদয়ে তাওহীদের আকীদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে আল্লাহর ভয়ের সাথে অপর কারো ভয় স্থান লাভ করতে পারে না।
টিটি: এ
তা-১৯/৪৪-_ আমপারা
০১৯০ ৩৯৯৮) 212 পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে
৬৬ পা শটি টি শি লা নটি
3৮০1511৬-০০। 426০৮এ| ০52 8৮৩
০ চিত টি ৩১ চা এ ৫1) ৩ পাশা নর ৮১৭92 ৬০1৪ ০05৭1 £ ০৮19-৮511)2 ৩2
৬০৮৮০192৮5৩ ০৮৮1১১০৯ &
যাবৃদের কাছে,১ এমন প্ররোচনা দানকারীর অনিষ্ট থেকে যে বারবার ফিরে আসে,২ * যে মানুষের মনে প্ররোচনা দাল করে, সে জিনের মধ্য থেকে হোক বা মানুষের মধ্য থেকে।৩
১. এখানেও সূরা আল ফালাকের মতো 'আউযু বিল্লাহ বলে সরাসরি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার পরিবর্তে আল্লাহর তিনটি গুণের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ তিনটি গুণের মধ্যে একটি হচ্ছে, তাঁর রারুন নাস অর্থাৎ সমগ্র মানব জাতির প্রতিপালক, মালিক ও প্রভু হওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তাঁর মালিকুন নাস অর্থাৎ সমস্ত মানুষের বাদশাহ, শাসক ও পরিচালক হওয়া। তৃতীয়টি হচ্ছে, তীর ইলাহুন নাস অর্থাৎ সমগ্র মানব জাতির প্রকৃত মাবুদ হওয়া। (এখানে একথা সুষ্পক্ট হওয়া প্রয়োজন যে, ইলাহ শব্দটি কুরআন. মজীদে দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এক, এমন বন্ধু বা ব্যক্তি যার ইবাদাত গ্রহণ করার কোন অধিকারই নেই কিন্তু কার্যত তার ইবাদাত করা হচ্ছে। রা লোকেরা তার ইবাদাত করুক বা না করুক। (জাল্লাহর জন্য যেখানে এ ব্যবহৃত হয়েছে এ দ্বিতীয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে)।
. এ তিনটি গুণের কাছে আশ্রয় চাওয়ার মানে- হচ্ছে £ আমি এমন এক আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, যিনি সমস্ত মানুষের রব, বাদশাহ ও মাবুদ হবার কারণে তাদের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্লাখেন, যিনি নিজের বান্দাদের হেফাজত করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং যথার্থই এমন অনিষ্টের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারেন, যার হাত থেকে নিজে বাঁচার এবং অন্যদের বাঁচাবার জন্য আমি তাঁর শরণাপন্ন হচ্ছি। শুধু এতটুকুই নয় বরং যেহেতু তিনিই রব, বাদশাহ ও ইলাহ, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই যাঁর কাছে আমি পানাহ চাইতে
বি
তাফহীমুল কুরআন সূরা আন নাস
২. মূলে /4৯/| 2৮/৯৩, শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ০১ এর মানে হচ্ছে, বারবার প্ররোচনা দানকারী। আর "ওয়াসওয়াসাহ” মানে হচ্ছে, একের পর এক এমন পদ্ধতিতে মানুষের মনে কোন খারাপ কথা বসিয়ে দেয়া যে, যার মনে এঁ কথা বসিয়ে দেয়া হচ্ছে, ওয়াসওয়াসাহ সৃষ্টিকারী যে তার মনে এঁ কথা বসিয়ে দিচ্ছে তা সে অনুভবই করতে পারে শা! ওয়াসওয়াসাহ শব্দের মধ্যেই বারবার হবার অর্থ রয়েছে, যেমন 'যালযালাহ' (ভূমিকম্প) শব্দটির মধ্যে রয়েছে, বারবার ভূকম্পনের ভাব। যেহেত্ মানুষকে শুধুমাত্র একবার প্রতারণা করলেই সে প্রতারিত হয় না বরং তাকে প্রতারিত করার জন্য একের পর এক প্রচেষ্টা চালাতে হয়, তাই এ ধরনের প্রচেষ্টাকে 'ওয়াসওয়াসাহ' (প্ররোচনা) এবং প্রচেষ্টাকারীকে ৭ওয়াসওয়াস' (প্ররোচক) বলা হয়। এখানে আর একটি শব্দ এসেছে খান্নাস। ০৮১৯ এর মূল হচ্ছে খুনুস। ০৯১১ এর মানে প্রকাশিত হবার পর আবার গোপন হওয়া অথবা সামনে আসার পর আবার পিছিয়ে যাওয়া। আর *খান্নাস” যেহেতু বেশী ও অত্যধিক বৃদ্ধির অর্থবোধক শব্দ, তাই এর অর্থ হয়, এ কাজটি বেশী বেশী বা অত্যধিক সম্পন্নকারী। একথা সুস্পষ্ট, প্ররোচনাদানকারীকে প্ররোচনা দেবার জন্য বারবার মানুষের কাছে আসতে হয়। আবার এই সঙ্গে যখন তাকে খান্নাসও বলা হয়েছে তখন এ দু'টি শব্দ পরস্পর মিলিত হয়ে আপনা আপনি এ অর্থ সৃষ্টি করেছে যে, প্ররোচনা দান করতে করতে সে পিছনে সরে যায় এবং তারপর প্ররোচনা দেবার জন্য আবার বারবার ফিরে আসে। অন্য কথায় একবার তার প্ররোচনা দান করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর সে ফিরে যায়। তারপর সেই প্রচেষ্টা চালাবার জন্য বারবার সে ফিরে আসে।
বারবার ফিরে আসা প্ররোচনাকারীর অনিষ্ট"-এর অর্থ বুঝে নেয়ার পর এখন তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার অর্থ কি,.একথা চিন্তা করতে হবে। এর একটি অর্থ হচ্ছে, আশ্রয় প্রার্থনাকারী নিজেই তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছে। অর্থাৎ এ অনিষ্ট তার মনে যেন কোন প্ররোচনা সৃষ্টি করতে না পারে। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর পথের দিকে আহবানকারীদের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তিই লোকদের মনে কোন প্ররোচনা সৃষ্টি করে বেড়ায় তার অনিষ্ট থেকে সত্যের আহবায়ক আল্লাহর আশ্রয় চায়। সত্যের আহবায়কের ব্যক্তি সত্তার বিরদ্ধে যেসব লোকের মনে প্ররোচনা সৃষ্টি করা হচ্ছে তার নিজের পক্ষে তাদের প্রত্যেকের কাছে পৌছে খু'টে খুটে তাদের প্রত্যেকের বিত্বান্তি দূর করে দেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করার যে কাজ সে করে যাচ্ছে তা বাদ দিয়ে প্ররোচনাকারীদের সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার এবং তাদের অতিযোগের জবাব দেবার কাজে আত্মনিয়োগ করাও তার পক্ষে সঙ্গত নয়। তার বির্ধবাদীরা যে পর্যায়ে নেমে এসেছে তার নিজের পক্ষেও সে পর্যায়ে নেমে আসা তার মর্যাদার পরিপ্থি। তাই মহান আল্লাহ সত্যের আহবায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, এ ধরনের অনিষ্টকারীদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর শরণাপন্ন হও এবং তারপর নিশ্চিন্তে নিজেদের দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করো। এরপর এদের মোকাবেলা কদ্না তোমাদের কাজ নয়, রকুন নাস, মালিকুন নাস ও ইলাহুন নাস সর্বশক্তিমান আগ্লাহরই কাজ।
এ প্রসঙ্গে একথাটিও অনুধাবন করতে হবে যে, ওয়াসওয়াসাহ বা প্ররোচনা হচ্ছে অনিষ্ট কর্মের সূচনা বিন্দু! যখন একজন অসতর্ক বা চিন্তাহীন মানুষের মনে তার প্রভাব পড়ে, তখন প্রথমে তার মধ্যে অসকাজ করার আকাংথা সৃষ্টি হয় তারপর আরো প্ররোচনা দান করার পর এ অসৎ আকাংখা অসৎ ইচ্ছায় পরিণত হয়। টি
আমপারা
তাফহীমূল কুরআন. সূরা আন নাস বত ধাবদ আজে পে দিকে দিতে অং ইচ্ছা অসৎ সংকসে পরিণত হয়। তারপর এর শেষ পদক্ষেপ হয় অসবকর্ম। তাই প্ররোচনা দানকারীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর |] আশ্রয় চাওয়ার অর্থ হবে, অনিষ্ের সূচনা যে স্থান থেকে হয়, মহান আল্লাহ যেন সেই স্থানেই তাকে নিমুল করে দেন।
প্ররোচনা দানকারীদের অনি্টকারিতাকে অন্য এক দৃষ্টিতে বিচার করণে। দেখা যাবে, প্রথমে তারা খোলাখুণি কৃফরী, শির্ক, নাস্তিকতা বা আল্লাহ্ ও রসৃণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং আল্লাহপন্থীদের সাথে শত্রুতার উক্কানী দেয়। এতে ব্যর্থ হলে এবং মানুষ আল্লাহর দীনের মধ্যে প্রবেশ করে গেলে তারা তাকে কোন না কোন বিদআতের পথ অবলহনের প্ররোচনা দেয়। এতেও ব্যর্থ হণে তাকে গোনাহ করতে উদ্বুদ্ধ করে। এখানেও সফণতা অর্জনে সক্ষম না হলে মানুষের মনে এ চিন্তার যোগান দেয় যে, ছোট ছোট সামান্য দু'চারটে গানাহ করে নিণে তো কোন ক্ষতি নেই। অর্থাৎ এভাবে এ ছোট গানাহ-ই যদি বিপুল পরিমাণে করতে থাকে তাহলে বিপুণ পরিমাণ গোনাহে মানুষ ডুবে যাবে। এ থেকেও যদি মানুষ পিঠ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে তাহলে শেষমেশ তারা চেষ্টা করে মানুষ যেন আপ্লাহর সত্য দীনকে শুধুমাত্র নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি এ সমস্ত কৌশল ব্যর্থ করে দেয় তাহনে জিন ও মানুষ শয়তানদের সমস্ত দন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে লোকদেরকে উদ্কানি দিতে ও উত্তেজিত করতে থাকে। তার প্রতি ব্যাপকভাবে গাপিগানাজ ও অভিযোগ-দৌষারোপের ধারা বর্ষণ করতে থাকে। চতুর্দিক থেকে তার দুর্নাম রটাবার ও তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করতে তাকে। তারপর শয়তান সে সেই মর্দে মুমিনকে ক্রোধাবিত করতে থাকে। সে বলতে থাকে, এসব কিছু ।] নীরবে সহ্য করে নেয়া তো বড়ই কাপুরুষের কাজ। ওঠো, এ আক্রমণকারীদের সাথে সংঘর্ষ বাধাও। সত্যের দাওয়াতের পথ রু্ধ করার এবং সত্যের আহবায়কদেরকে পথের কাঁটার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত করার জন্য এটি হয় শয়তানের শেষ অন্ত্র। সত্যের আহ্বায়কদেরকে পথের কাঁটার সাথে সংঘর্ষে িপ্ত করার জন্য এটি হয় শয়তানের শেষ অস্ত্র সত্যের আহবায়ক এ ময়দান থেকেও যদি বিজয়ীর বেশে বের হয়ে আসে তাহলে শয়তান তার সামনে নিরুপায় হয়ে যায়। এ জিনিসটি সম্পর্কেই কুরআন মজীদে বলা হয়েছে £ [ও
410০0১১৮০০৪ ০৪ “জার যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমরা কোন উক্কানী 'অনুভব করো তাহলে আল্লাহর পানাহ চাও।» (হা-মীম সাজদাহ, ৩৬) |
-০০১ ৯১০০০৪৮০০১৪ সবণো, হে আমার রব! আমি শয়তানদের উন্ধানী থেকে তোমার পানাহ চাচ্ছি। (জাল মুমিনূন* ৯৭) ||.
পু সর পদতপ্।ক 131 18510231191 ]..
পি €? পয ৭৯৪ পপ
টানে রে রি
০০০৯ 1005104855 9৮৯4০ 0০ ০ শ্যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের অবস্থা এমন হয় যে, কখনো শয়তানের প্রভাবে | 280888805485:5578588558088558185588835808558-98387
তাফহীমুল কুরআন সূরা আন নাস
নর
তারপর (সঠিক পথ) তাদের দৃষ্টি সমক্ষে পরিষ্কার তেসে উঠতে থাকে।” (আল আরাফ, ২০১)।
আর এ জন্যই যারা শয়তানের এই শেষ অস্ত্রের আঘাতও ব্যর্থ করে দিয়ে সফলকাম হয়ে বেরিয়ে 'আসে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন £ ১১৮2 ৪০% তত5 "অতি সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউ এ জিনিস লাভ কর্নতে পারে না।” (হা-মীম আস সাজদাহ, ৩৫)
এ প্রসঙ্গে আর একটি কথাও সামনে রাখতে হবে। সেটি হচ্ছে, মানুষের মনে কেবল জিন ও মানুষ দলভুক্ত শয়তানরাই বাইর থেকে প্ররোচনা দেয় না বরং ডেতর থেকে মানুষের নিজের নফসও প্ররোচনা দেয়। তার নিজের ভ্রান্ত মতবাদ তার বুদধিবৃত্তিকে বিপথে পরিচালিত করে। -তার নিজের অবৈধ স্বার্থ-লালসা তার ইচ্ছা, সংকল্প, বিশ্লেষণ ও স্্ীমাংসা করার ক্ষমতাকে অসৎপথে চালিত করে। আর বাইরের শয়তানরাই শুধু নয়, কুরানের এক জায়গায় বলা হয়েছে এভাবে 4--৯: 3 ০১+১২৮+ 71৬ স্আর আমি তাদের নফস থেকে উদ্ভুত প্ররোচনাসমূহ জানি।” (কাফ, ১৬) এ কারগ্েই র্সৃলুরাহ সানলাল্ আল্লাইুহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক বহুল প্রচারিত ভাষণে বলেন £ 447; ২১৮২ ০৮851 ১১০০ ০2 "আমরা নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে আল্লাহর পানাহ চাচ্ছি।”
৩. কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে এ শব্দগুলোর অর্থ হচ্ছে, প্ররোচণা দানকারীরা দুই ধরনের লোকদের মনে প্ররোচনা দান করে। এক, জিন এবং দুই, মানুষ। এ বক্তব্যটি মেনে নিলে এখানে নাস ১১ বলতে জিন ও মানুষ উতয়কে বুঝাবে এবং তারা বলেন, এমনটি হতে পারে। কারণ, কুরআনে যখন ৩:3১ (পুরুষরা) শব্দটি, জিনদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন সূরা জিনের ৬ আয়াতে দেখা যায় এবং যখন +** (দল) শব্দটির ব্যবহার জিনদের দলের ব্যাপারে হতে পারে, যেমন সূরা আহকাফের ২৯ আয়াতে দেখা যায়, তখন পরোক্ষভাবে "নাস শব্দের মধ্যে মানুষ ও জিন উভয়ই শামিল হতে পারে। কিন্তু এ মতটি সঠিক নয়। কারণ ০৮৮১ _ ০৮1 ও ০৮-১| শব্দগুলো আভিধানিক দিকে দিয়েই ৫১২ (জিন) শব্দের বিপরীতধর্মী। জিন-এর আসল মানে হচ্ছে গোপন সৃষ্টি। আর জিন মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকে বলেই তাকে জিন বলা হয়। বিপরীত পক্ষে “নাস ও 'ইনস' শব্দগুলো মানুষ অর্থে এ জন্য বলা হয় যে, তারা প্রকাশিত, তাদের চোখে দেখা, যায় এবং ত্বক দিয়ে। অনুভব করা যায়। »সুন্া কাসাসের ২৯ আয়াতে 1১০ ১১৮। ১০৩ ১ ০০ বলা হয়েছে। এখানে ০৮1 (আ-নাসা) মানে 1) রোআ) অর্থাৎ হযরত মুসা €আ),"্তুর প্যৃহাড়ের /কিনারে আগুন দেখেন।” সূরা আন নিসার ৬ আয়াতে বলা হয়েছে $ 1১-4১ ++ 4১0৮8 শ্যদি তোমরা অনুভব করো, এতিম শিশুদের এখন বৃঝসুঝ হয়েছে।
₹8 আ-নাসতুম) মানে -৫--..১1 জোহসাসত্ম) বা (১:09 (রাআইতুম)। কাজেই আরবী ভাষার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী 'নাস শব্দটির মানে জিন হতে পারে না।
আমপারা
. তাফহীমুল কুরআন . সূরা আন নাস
গেন্ালূলল্ভ জু এমন প্ররোচনা দানকারীর অনিষ্ট থেকে যে মানুষের মনে প্ররোচনা দান করে সে জিনদের মধ্য থেকে হোক বা মানুষদের মধ্য থেকে ।” অর্থাৎ অন্য কথায় বলা যায়, প্ররোচনা দান করার কাজ জিন শয়তানরাও করে আবার মানুষ শ্য়তানরাও করে। কাজৈই এ সূরায় উভয়ের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুরআন থেকে এ অর্থের সমর্থন পাওয়া যায় এবং হাদীস থেকেও। কুরআনে বলা হয়েছে £
৯৪ 4৩ 5৪৩ ৯০ ৪ এ পন ॥৮.11681০ কল) ৯. ৫4 প)1 ০ +০৯:০১৫৪০০। 25019 ০4৯44 ৪55 5) ৫222 ৯৭৩ প্ 1১১০৪ -২১৯০/০৯ ভা। "আর এভাবে আমি জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু বানিয়ে দিয়েছি, তারা পরস্পরের কাছে মনোমুগ্ধকর কথা ধৌকা ও প্রতারণার ছলে বলতে থাকে।” (আল আন আম, ১১২) আর হাদীসে ইমাম আহমাদ, নাসাঈ ও ইবনে হিবান হযরত আবু যার গ্রিফারী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন £ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাযির হলাম। তখন তিনি মসজিদে বসেছিলেন। তিনি বললেন, আবু যার! তৃমি নামাষ পড়েছো? আমি জবাব দিলাম, না। বললেন, ওঠো এবং নামায পড়ো! কাজেই আমি নামায পড়লাম এবং তারপর আবার এসে বসলাম। তিনি বললেন ঃ
2১00৮4০১৮১5 040 3 5504 *হে আবু যার! মানুষ শয়তান ও জিন শয়তানের অনিষ্ট থেকে আন্রাহর পানাহ চাও”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! মানুষের মধ্যেও কি আবার শয়তান হয়? বললেন, হী।
তাফহীমুল কুরআন ৩৪১
শেষ কথা
আমি ১৩৬১ হিজরীর মুহররম মাসে (ঈসায়ী ১৯৪২ ফেব্রুয়ারি) তাফহীমুল কুরআন লেখার যে সুকঠিন দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়েছিলাম, তিরিশ বছর চার মাস পরে আজ তা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি-_এ জন্য গভীর আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি নিজের এক নগণ্য বান্দাকে তাঁর পবিত্র কিতাবের খেদমত করার তাওফীক দান করেছেন। তীর প্রত্যেক্ষ অনুগধহ ও মেহেরবানীর ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এ তাফসীর গ্রন্থে আমি যা কিছু সঠিক ও সত্য আলোচনা করেছি তা মূলত মহান আল্লাহর হিদায়াত ও পথনির্দেশনার বদৌলতে সম্ভব হয়েছে। আর যেখানেই কুরজানের ব্যাখ্যা ও বক্তব্যের প্রতিনিধিত্ব করার ব্যাপারে আমি কোন ভুল করেছি, তা অবশ্যি আমার নিজের জ্ঞান ও বুদ্ধি-বিবেচনার কমতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে আলহামদুলিল্লাহ! আমি জেনে-বুঝে কোন ভূল করিনি। তাই আল্লাহর অনুগ্ঠহের দরবারে এতটুকু আশা রাখি, তিনি এটি মাফ করে দেবেন এবং আমার এ কাজের মাধ্যমে তাঁর বান্দারা হিদায়াত লাত করার ক্ষেত্রে কোন সহায়তা লাভ করে থাকলে তাকে আমার মাগফেরাতের মাধ্যমে পরিণত করবেন। আলেম সমাজের কাছেও আমার আবেদন, আমার ভুল-ক্রটির ব্যাপারে তীরা যেন আমাকে অবহিত করেন। যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে যে কথাটির ভ্রান্তি আমার সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে, ইনশাআল্লাহ আমি তা শুধরে নেবো। কিতাবুল্লাহর ব্যাপারে জেনে-বুঝে কোন ভুল করার এবং কোন ভূল প্রমাণিত হবার পরও তার ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর পানাহ চাই।
এ কিতাবে আমি যে পদ্ধতি অবলধ্ন করেছি তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট) আমি নিজে কুরআনকে যেভাবে বুঝেছি, সাধারণ শিক্ষিত লোকদেরকে সেভাবে কুরআন বুঝাবার জন্য এখানে চেষ্টা করেছি। কুরআনের আসল তাৎপর্য ও মূল বক্তব্য এমন দ্যর্থহীনতাবে তুলে ধরতে চেয়েছি যার ফলে পাঠক কুরআনের অন্তস্থলে পৌছুতে সক্ষম হন। কুরআন ও তার নিছক অনুবাদগুলো পড়ে মানুষের মনে যেসব সন্দেহ-সংশয় জাগে সেগুলো দূর করা এবং যেসব প্রশ্নের উদয় হয় সেগুলোর জবাব দেবার চেষ্টা আমি করেছি। কুরআন মঞ্জীদে যেসব কথা ইশারা- ইঙ্গিতে, চুম্বক বক্তব্যের মাধ্যমে এবং সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলোকে সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে তৃূলে ধরার একটা প্রচেষ্টা আমি চালিয়েছি।
শুরুতে বেশী লহ্বা-চওড়া আলোচনা করার উদ্দেশ্য 'আমার ছিল না। তাই প্রথম ১০ বদ দত ৮৮৮1৬ যেতে থেকেছি 'ততই টীকায় বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন অনুভব করেছি। এমনকি পরবর্তী জিনদগ্ুডলো দেখে এখন প্রথমেরগুলোকে সবাই অসম্পূর্ণ মনে করতে শুরু করেছেন। কিন্তু কুরআন মজীদের বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তির ফলে আমরা একটা ফায়দা হাসিল করতে পেরেছি। যে বিষয়ের ব্যাখ্যা এক জায়গায় অসম্পূর্ণ থেকে গেছে, পরবর্তী 188948814838515183588503681737523548888800৯
আমপারা
তাফহীমুল কুরআন
আমি আশা করি যারা কুরআন মজীদকে তাফহীমুল কুরআনের মাধমে শুধুমাত্র একবার পড়েই ক্ষান্ত হন না, তারা সমগ্র কিতাব দ্বিতীয়বার পড়ার সময় নিজেরাই অনুভব করবেন যে রবী ্রা্জদোর সমূহ পুরবতী সরানো সনুখাবন করার বাগারে বে সহায়ক প্রমাণিত হয়।
(৭ জুন, ১৯৭২ ইথ